”ব্রাহ্মণরা লাভ করছে”, রাশিয়ার তেল কেনায় মোদি সরকারকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য পিটার নাভারোর!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো সম্প্রতি ভারত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ভারত ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে ‘সরাসরি অর্থ সাহায্য’ করছে এবং এর ফলে শুধুমাত্র ভারতের ব্রাহ্মণ সম্প্রদায় লাভবান হচ্ছে।

ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাভারো বলেন, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধের তহবিলকে শক্তিশালী করছে। তার মতে, ভারত প্রতিদিন এক মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করছে, যার বেশিরভাগই আসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল থেকে। তিনি দাবি করেন যে এই লাভ ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে যাচ্ছে, এবং এতে সাধারণ মানুষের কোনো লাভ হচ্ছে না। নাভারো এই যুদ্ধকে ‘মোদীর যুদ্ধ’ বলেও আখ্যা দেন।

নাভারো তার মন্তব্যে ভারতের বর্ণপ্রথাকেও টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, “ভারতের মানুষকে বুঝতে হবে আসলে কী ঘটছে। আপনারা দেখছেন, ব্রাহ্মণরা জনগণের ক্ষতির বিনিময়ে মুনাফা করছে, এবং আমরা চাই এটি বন্ধ হোক।” তার এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়েছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের আমদানি করা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য। এই কঠোর শুল্কনীতির মূল স্থপতি ছিলেন নাভারো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করে, তাহলে শুল্ক আরও বাড়ানো হবে।

ভারতের পক্ষ থেকে নাভারোর এই অভিযোগকে ‘ভণ্ডামি’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপ এখনো রাশিয়ার গ্যাস কিনছে এবং আমেরিকা রাশিয়ার ইউরেনিয়াম আমদানি করছে, অথচ ভারতকে সমালোচনা করা হচ্ছে। ভারত আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বাণিজ্য করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাভারোর এই মন্তব্য শুধু বাণিজ্য বা ভূ-রাজনীতি নয়, বরং ভারতীয় সমাজব্যবস্থার ওপরও সরাসরি আক্রমণ। এই ধরনের মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।