এসসিও সম্মেলনে মোদি-জিনপিং বৈঠক, কোন কোন বিষয়ে একমত ভারত-চিন?

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক বছরের মধ্যে দুই নেতার এটি ছিল দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এই বৈঠকে উভয় দেশ সীমান্ত সমস্যা সমাধান, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
বৈঠকের মূল বিষয়
বৈঠকের পর ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং উন্নয়নের ক্ষেত্রে অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক প্রায় ২৮০ কোটি মানুষের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারে। মোদি ও জিনপিং উভয়েই একমত হয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে থাকা পার্থক্যগুলোকে বিরোধে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়।
সীমান্ত নিয়ে আলোচনা
এই বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সীমান্ত বিরোধ। দুই নেতাই সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা সম্মত হয়েছেন যে, সীমান্ত সমস্যা সমাধান এবং ভবিষ্যতের সম্পর্ককে মসৃণ রাখতে শান্তি বজায় রাখা অপরিহার্য। উভয় দেশই একটি ন্যায্য, যুক্তিযুক্ত এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধ নিরসনের অঙ্গীকার করেছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
সন্ত্রাসবাদ: প্রধানমন্ত্রী মোদি আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এই সমস্যা সমাধানে চিনের সমর্থন চান। চিনও এই বিষয়ে ভারতকে সমর্থন করার আশ্বাস দিয়েছে।
বাণিজ্য: দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্পর্ক: শি জিনপিং চারটি ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন: কৌশলগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা, একে অপরের উদ্বেগ ও সমস্যা সমাধানে সহায়তা এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা।
বৈঠকের শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০২৬ সালে ভারতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আমন্ত্রণ জানান। প্রেসিডেন্ট শি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এই বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।