‘অ-যোগ্যদের তালিকা আমার নাম কেন?….’, ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন তৃণমূলের কাউন্সিলর শিক্ষিকা

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রকাশিত অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকায় এবার নাম উঠেছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষের। তিনি চৌহাটি হাই স্কুলের ইতিহাস শিক্ষিকা। তবে তিনি এই অভিযোগ মেনে নিতে রাজি নন এবং আইনি লড়াইয়ের হুমকি দিয়েছেন।

শনিবার রাতে এসএসসি ১৮০৪ জন অযোগ্য প্রার্থীর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় ৬৪৭ নম্বরে কুহেলি ঘোষের নাম রয়েছে। এর আগেও ২০২২ সালে সিবিআই-এর তালিকায় তার নাম এসেছিল। কিন্তু তিনি বারবার দাবি করেছেন যে তার চাকরি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে এবং নিজের যোগ্যতায় হয়েছে।

কুহেলি ঘোষ বলেন, “২০২২ সালে সিবিআই একই রকম একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেখানেও আমার নাম ছিল। আমি সিবিআইকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মামলা করেছিলাম। তিন বছরে সিবিআই আমাকে ডাকেনি। এসএসসির এই নতুন তালিকা নিয়েও আমি আবার মামলা করব।”

এসএসসি-র প্রকাশিত তালিকায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতার নাম রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

অঙ্কিতা অধিকারী: প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে। তার চাকরি বাতিলের নির্দেশ আগেই দিয়েছিল হাইকোর্ট।

বিভাষ মালিক: হুগলির খানাকুলের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। তার নাম রয়েছে ৩১৬ নম্বরে। চাকরি বাতিল হওয়ার আগে তিনি তারকেশ্বরের একটি স্কুলে কাজ করতেন।

অজয় মাঝি: পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি।

কবিতা বর্মণ: উত্তর দিনাজপুরের তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা পরিষদের সভাপতি, যিনি এখন বিজেপিতে।

সাহিনা সুলতানা: তৃণমূলের সহ-সভাপতি।

এই তালিকা প্রকাশের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধীরা শাসকদলকে দুর্নীতির ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করছে। অন্যদিকে, কুহেলি ঘোষের মতো অনেক নেতা-নেত্রীই দাবি করছেন যে তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং অন্যায়ভাবে তাদের নাম তালিকায় এসেছে।