“পায়ে পড়ি, আমার ছেলেকে বাঁচান”, প্রবল বর্ষায় বিপর্যস্ত তেলঙ্গানা! শেষমেশ মিরাকেল ঘটালেন উদ্ধারকারীরা

টানা বৃষ্টিতে তেলঙ্গানার একাধিক জেলা বন্যায় (Flood) ভেসে গেছে। এর ফলে বহু মানুষ ঘরছাড়া। তবে এই ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও উঠে আসছে কিছু মানবিকতার গল্প।

৩০ ঘণ্টা ছেলের জন্য মায়ের অপেক্ষা
রাজ্যজুড়ে সবার নজর কেড়েছে রাজন্না সিরসিল্লা জেলার এক মায়ের গল্প। বন্যায় আটকে পড়া ছেলে জংগম স্বামীর জন্য মা লক্ষ্মী দেবী টানা ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। তিনি উদ্ধারকারী দলকে অনুরোধ করেছেন, ‘আমার ছেলেকে বাঁচান, পায়ে পড়ি!’ শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনার হেলিকপ্টার নাটকীয়ভাবে জংগমকে উদ্ধার করে। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে মা যেন নতুন করে জীবন খুঁজে পেয়েছেন। জংগম নিজেও উদ্ধারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তারা তাকে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছেন।

এনডিআরএফ ও পুলিশের বীরত্ব
মেদক জেলায় বীর এনডিআরএফ: মেদক জেলায় এনডিআরএফ কর্মীরা একজন গর্ভবতী মহিলাকে জীবন হাতে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। তাদের এই সাহসিকতার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ‘ফ্লুরোসেন্ট কমলা নাইটস’ বলা হচ্ছে। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণে মা ও নবজাতক দুজনই প্রাণে বেঁচেছে।

কমারেড্ডিতে পুলিশের সাহসিকতা: কমারেড্ডি জেলায় পুলিশ কর্মীরা বুকের সমান জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেবল দড়ির সাহায্যে ১০ জন আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করেছেন। তাদের এখন সবাই ‘হিরো’ বলছেন।

সব গল্প সুখের নয়
এই বিপর্যয়ের মাঝেও কিছু দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। রাজপেট ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় দুজন ব্যক্তি— সত্যম ও যদা গৌড়— বন্যায় ভেসে গেছেন। এখনও পর্যন্ত তাদের খোঁজ মেলেনি। প্রাক্তন সেচমন্ত্রী হরিশ রাও অভিযোগ করেছেন যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুতের খুঁটি আঁকড়ে থাকলেও তাদের জন্য হেলিকপ্টার পাঠানো হয়নি।

রেকর্ড বৃষ্টি
তেলঙ্গানার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গত ৫০ বছরে এত কম সময়ে এত বেশি বৃষ্টি হয়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় কামারেড্ডি এবং মেদক জেলায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। শুধু কামারেড্ডির রাজমপেট এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবনযাত্রায় যেমন প্রভাব পড়েছে, তেমনই মানবিকতার অনেক গল্পও সবার সামনে এসেছে। এই সব ছোট ছোট ঘটনা প্রমাণ করে যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়ালে অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়।