মন্দিরের দানবাক্সে জমা পড়া অর্থের উপরে অধিকার শুধুমাত্র দেবতার, সরকারের নয়! নির্দেশ হাইকোর্টের

মন্দিরের দানবাক্সে যে টাকা জমা পড়ে, তার একমাত্র অধিকার দেবতার, সরকারের নয়। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট। আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদানকে জনগণের বা সরকারের টাকা হিসাবে ধরা যাবে না।

ঘটনার সূত্রপাত তামিলনাড়ুতে। রাজ্য সরকার সেখানকার কিছু মন্দিরের টাকা খরচ করে বিয়ের অনুষ্ঠান বা ‘ম্যারেজ হল’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রাজ্যের মানবসম্পদ মন্ত্রী পি. কে. শেখর বাবু বিধানসভায় ঘোষণা করেছিলেন যে প্রায় ৮০ কোটি টাকা খরচ করে ২৭টি মন্দিরে বিয়ের হল তৈরি করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একটি মামলা করা হয়।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। বিচারপতি এস. এম. সুব্রহ্মণ্যম ও বিচারপতি জি. অরুল মুরুগান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেন। রায়ে বলা হয়, মন্দিরে জমা হওয়া অর্থ শুধু ঈশ্বরের। এই টাকার ওপর দেবতারই অধিকার রয়েছে। তবে, মন্দির কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়, তাদের তহবিলের ব্যবহার অবশ্যই হিন্দু ধর্ম ও অনুদান আইন মেনে হতে হবে।

আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, মন্দিরের টাকা শুধুমাত্র ধর্মীয় কাজে বা ভক্তদের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করতে হবে। যেমন – মন্দিরের উৎসব, রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কোনো উন্নয়নের কাজ। ধর্মীয় কাজ ছাড়া অন্য কোনো কারণে এই টাকা ব্যবহার করা যাবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, “মন্দিরের তহবিল নিজেদের কাজে লাগানোর জন্য সরকারের এই চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি হিন্দুদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।”