মোদক, জবার মালা আর লাল কাপড়, কিভাবে পুজো করলে গণেশের অশীর্বাদ থাকবে সারাবছর?

শারদোৎসবের আগে পালিত হয় ভগবান গণেশের জন্মদিন, গণেশ চতুর্থী। গণপতি বাপ্পার এই উৎসব এখন শুধু মহারাষ্ট্র নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই জনপ্রিয়। অনেকেই নিজের হাতে মোদক বানিয়ে বাপ্পাকে নিবেদন করেন। কিন্তু জানেন কি, গণেশ পুজোয় কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চললে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ সারাবছর আপনার সঙ্গে থাকবে?

গণেশকে সন্তুষ্ট করার নিয়মাবলী:

  • নৈবেদ্য: গণেশের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো মোদক এবং লাড্ডু। তাই পুজোর নৈবেদ্যতে এগুলো অবশ্যই রাখবেন।
  • মালা: গণেশের মূর্তিতে দূর্বার মালা এবং জবার মালা পরান। দূর্বা এবং ঘাস গণেশের খুব প্রিয়।
  • অন্যান্য উপকরণ: পুজোয় সুপারি এবং পান অবশ্যই অর্পণ করবেন।
  • মূর্তি স্থাপন: একটি কাঠের চৌকিতে লাল কাপড় বিছিয়ে তার উপর গণেশের মূর্তি রাখুন। মূর্তি বসানোর জন্য উত্তর, পূর্ব বা উত্তর-পূর্ব দিক সবচেয়ে শুভ।
  • প্রতীক: গণেশের ডান ও বাম দিকে ঋদ্ধি-সিদ্ধির প্রতীক হিসেবে একটি করে সুপারি রাখুন।
  • পূজা: গণেশকে খুশি করতে পঞ্চামৃত, সিঁদুর, ধূপ এবং প্রদীপ ব্যবহার করে পুজো করুন।
  • মন্ত্র: ‘ওঁ শ্রী গণেশায় নমঃ’ মন্ত্রটি পাঠ করে পুজো করলে সিদ্ধিদাতা খুশি হন।

গণেশ পুজোয় কোন কাজগুলো করা উচিত নয়?

  • চাঁদ দেখা: গণেশ পুজোর সময় চাঁদ দেখতে নেই। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশকে দেখে চাঁদ হেসেছিল বলে গণেশ তাকে অভিশাপ দেন, যার ফলে যে কেউ ওইদিন চাঁদ দেখলে তার জীবনে বিপদ নেমে আসে।
  • তুলসী: গণেশ পুজোতে ভুল করেও তুলসী ব্যবহার করা উচিত নয়। একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, তুলসী গণেশকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। গণেশ রাজি না হওয়ায় তুলসী তাকে দুটি বিয়ের অভিশাপ দেন।
  • ভাঙা মূর্তি: পুজোর জন্য ব্যবহৃত মূর্তি যেন ভাঙা না থাকে। এতে পুজোয় সাফল্য আসে না।
  • খাবার: নৈবেদ্যতে মোদক ও লাড্ডু অবশ্যই নিরামিষ হতে হবে।
  • পোশাক: অনেকে বিশ্বাস করেন, কালো রং শোকের প্রতীক, তাই গণেশ পুজোয় কালো রঙের পোশাক পরা উচিত নয়।