এবার দেশবাসীর রক্ষায় স্বয়ং ‘ভৈরব!’ চিন-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জবাব দেবে এই নতুন বাহিনী

দেশের সুরক্ষার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এবার যুক্ত হচ্ছে এক নতুন বিশেষ কমান্ডো বাহিনী, যার নাম ‘ভৈরব’। এই বাহিনী শত্রুদের মোকাবিলা করতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ভারত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে তাদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন তৈরি করা হলো এই বাহিনী?
ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও শক্তি যোগ করতে এই ভৈরব কমান্ডো বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান এবং চীনের দিক থেকে বাড়তে থাকা হুমকির কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী একযোগে দুটি ফ্রন্টে লড়াই করার জন্য নিজেদের আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করে। তারই অংশ হিসেবে এই নতুন ব্যাটালিয়নটি তৈরি করা হয়েছে।
কোথায় মোতায়েন করা হবে ভৈরব বাহিনীকে?
প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভৈরব কমান্ডো ব্যাটালিয়ন তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ব্যাটালিয়ন উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে মোতায়েন করা হবে। এর ফলে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হবে। বাকি দুটি ব্যাটালিয়নের মধ্যে একটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবং অন্যটি পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চলে মোতায়েন করা হবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী কার্গিল বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন যে, ২০২৩ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত সময়কালকে সেনাবাহিনীর “রূপান্তরের দশক” হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই রূপান্তরের প্রধান লক্ষ্য হলো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। উন্নত ড্রোন, গোলাবারুদ, দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর আক্রমণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রতিটি পদাতিক ব্যাটালিয়নের সঙ্গে গোলন্দাজ বাহিনী এবং ড্রোন ইউনিট যুক্ত করারও পরিকল্পনা আছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৈরব কমান্ডোরা সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সরাসরি যুদ্ধের ময়দানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।