‘US কোনও পিগি ব্যাঙ্ক বা কারও পায়ের তলায় থাকা কার্পেট নয়’, ডিজিটাল ট্যাক্স নিয়ে শুল্ক-হুমকি ট্রাম্পের

‘ডিজিটাল ট্যাক্স’ নিয়ে এবার বিশ্বজুড়ে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি বিভিন্ন দেশ মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর বৈষম্যমূলক কর আরোপ করা বন্ধ না করে, তাহলে আমেরিকা তাদের রফতানির উপর বড় ধরনের শুল্ক বসাবে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালের’ মাধ্যমে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘ডিজিটাল ট্যাক্স’ বা ‘ডিজিটাল সার্ভিস লেজিসলেশনের’ মতো আইন তৈরি করে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে আক্রমণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এর ফলে চীনের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সুবিধা পাচ্ছে, যা বন্ধ হওয়া উচিত। ট্রাম্প আরও বলেন, আমেরিকা আর বিশ্বের ‘পিগি ব্যাঙ্ক’ বা কারোর পায়ের নিচে থাকা ‘কার্পেট’ নয়। তার মতে, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সম্মান জানাতে হবে, নয়তো এর ফল ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘অন্যায্য বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা’ রুখতে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছিল। ইইউ ইলেকট্রনিক লেনদেনে কোনো শুল্ক বসাবে না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন এই মন্তব্যে পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ডিজিটাল ট্যাক্স নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। গত জুন মাসে আমেরিকা কানাডাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তারা যদি ডিজিটাল ট্যাক্স প্রত্যাহার না করে, তাহলে তাদের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেওয়া হবে। সাধারণত এই ধরনের কর কেবল গুগল, মেটা, এবং অ্যামাজনের মতো বড় মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপরই চাপানো হয়, যা নিয়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই হুমকির ফলে আমেরিকা এবং তার বাণিজ্যিক সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি এবং চীনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ট্রাম্পের এই মন্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।