পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু ‘শ্রমশ্রী!’, এই প্রকল্পের জালিয়াতি রুখতে কড়া প্রশাসন, যাচাই-বাছাইয়ে বিশেষ নজরদারি

পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তার জন্য রাজ্য সরকার যে ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’ শুরু করেছে, তার সুবিধা যেন কেবল প্রকৃত শ্রমিকরাই পান, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। শ্রম দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই ভুয়ো নথি বা মিথ্যা পরিচয়ের ভিত্তিতে কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবে না।
যাচাই-বাছাইয়ে কড়া নজরদারি
শ্রম দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত সব আধিকারিকদের এই কাজে কঠোর নজর রাখতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শ্রম দফতরের কর্মীদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতিটি আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করবে। যারা আবেদন করছেন, তাদের অন্য রাজ্যে কাজ করার প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনো আবেদনকারী সঠিক নথি দিতে না পারেন বা নথিতে কোনো অসঙ্গতি থাকে, তবে তার আবেদন সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রকল্পের সুবিধা নিতে অনেকে জাল পরিচয়পত্র বা ভুয়ো নথি ব্যবহার করতে পারেন। তাই ব্লক অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সন্দেহজনক আবেদনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণও সংগ্রহ করা হবে।
আসল উদ্দেশ্য যেন ব্যাহত না হয়
শ্রম দফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, “শ্রমশ্রী প্রকল্প তাদের জন্য, যারা বছরের পর বছর রাজ্যের বাইরে খেটেছেন এবং এখন নানা কারণে ঘরে ফিরেছেন। এই প্রকল্প তাদের নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করবে। কিন্তু যদি কোনো ভুয়ো আবেদনকারী সুবিধা নিয়ে নেয়, তাহলে প্রকৃত শ্রমিকরা বঞ্চিত হবেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ফিরে আসা শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ, সহজে ঋণ এবং ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া হবে। প্রশাসন মনে করছে, যদি প্রকল্পটি সঠিকভাবে কার্যকর করা যায়, তবে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, এই কাজে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ শিবিরে শ্রম দফতরের প্রতিনিধিরা আবেদনপত্র নিচ্ছেন এবং একইসঙ্গে পৃথকভাবেও এই কাজ চলছে।