পনের বলি আরও এক নারী, ‘ওরা মাকে পুড়িয়ে দিল’ কষ্টে বুক ফাটা কান্নায় ৭ বছরের ছেলে

পণের দাবিতে নৃশংসভাবে এক গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নয়ডার এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। নিহতের নাম নিক্কি ভাটি, বয়স ২৮ বছর। এই ভয়ংকর ঘটনার একমাত্র সাক্ষী তার সাত বছরের ছেলে, যে এখনো বারবার কাঁদতে কাঁদতে বলছে, “ওরা মাকে পুড়িয়ে দিল।”
নয় বছরের বিবাহিত জীবনে পণের অত্যাচার
নিক্কির বাবা ভিখারি সিং পৈলা জানিয়েছেন, নয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই নিক্কিকে পণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাদের দাবি ছিল ৩৬ লক্ষ টাকা। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় নিক্কির ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চলত বলে অভিযোগ।
সামনে বোনকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ
নিক্কির বড় বোন কাঞ্চনও একই পরিবারে বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার চোখের সামনেই নিক্কিকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। কাঞ্চন নিজেও পণের জন্য শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন তার স্বামী বিপিন ও দেওর রোহিত বেকার ছিলেন এবং সংসারের খরচ তাদের বাবার মুদিখানার দোকানের আয়ে চলত। নিক্কি ও কাঞ্চন একটি পার্লার ও বুটিক খুলে স্বাবলম্বী হতে চেয়েছিলেন, যা বিপিন মেনে নিতে পারেননি।
ঘটনার দিনের বিবরণ
গত ২১শে আগস্ট নিক্কি ও বিপিনের মধ্যে তীব্র বচসা হয়। অভিযোগ, সেই সময় বিপিন নিক্কিকে বেধড়ক মারধর করে এবং পরে মায়ের সাহায্যে তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নিক্কিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। পরে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশি তদন্ত
এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই নিক্কির স্বামী বিপিন ভাটি, দেওর রোহিত ভাটি এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। নিক্কির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তারা সব দিক খতিয়ে দেখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ নিক্কির পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।