‘হনুমানজি প্রথম মহাকাশচারী’! ন্যাশনাল স্পেস ডে-তে অনুরাগ ঠাকুরের বক্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক

ন্যাশনাল স্পেস ডে উপলক্ষে বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের একটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি দাবি করেন, “হনুমানজিই প্রথম মহাকাশ ভ্রমণকারী।” তার এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চলছে তীব্র আলোচনা।

অনুরাগ ঠাকুর শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করেন, “প্রথম মহাকাশ ভ্রমণকারী কে?” এরপর নিজেই উত্তর দেন, “আমার মনে হয় হনুমানজিই প্রথম মহাকাশে যাত্রা করেছিলেন।” তিনি বলেন, পৌরাণিক চরিত্র বজরংবলিকে মহাকাশচারী হিসেবে তুলনা করা যায়। তার এই বক্তব্য নিয়ে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, শিশুদের সামনে পৌরাণিক কাহিনীকে বৈজ্ঞানিক তথ্য হিসেবে তুলে ধরা বিভ্রান্তিকর।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আপনি বাচ্চাদের ভুল তথ্য দিলেন। প্রথম মহাকাশচারী ছিলেন ইউরি গ্যাগারিন, হনুমানজি নন।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “বিজ্ঞান আর বিশ্বাস ভিন্ন বিষয়। স্কুলে শিশুদের বৈজ্ঞানিক তথ্য শেখানো উচিত, মিথ বা উপকথা নয়।” অনেক নেটিজেন সংবিধানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সংবিধানে বৈজ্ঞানিক মানসিকতা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে, সেখানে পৌরাণিক কাহিনী দিয়ে বাস্তবকে ঢেকে দেওয়া ঠিক নয়।

সমালোচনার পাশাপাশি অনেকেই প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেছেন:

ইউরি গ্যাগারিন (১৯৬১): মহাকাশে যাওয়া প্রথম মানুষ।

ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভা (১৯৬৩): মহাকাশে যাওয়া প্রথম মহিলা।

রাকেশ শর্মা (১৯৮৪): মহাকাশে যাওয়া প্রথম ভারতীয়।

কল্পনা চাওলা: প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা মহাকাশচারী।

এই বিতর্কটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সদ্যই দেশ ‘ন্যাশনাল স্পেস ডে’ উদযাপন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে ভারত শিগগিরই নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি করবে। অনুরাগ ঠাকুরের এই মন্তব্য বিজ্ঞান এবং পৌরাণিক বিশ্বাসের মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।