ভারতের নৌবাহিনীতে নতুন শক্তি, যোগ দিল উদয়গিরি ও হিমগিরি! কী কী ক্ষমতা রয়েছে দেখুন?

ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। আজ, ২৬শে আগস্ট, বিশাখাপত্তনম বন্দরে একসঙ্গে দুটি দেশীয়ভাবে তৈরি স্টিলথ ফ্রিগেট— আইএনএস উদয়গিরি এবং আইএনএস হিমগিরি— ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দিল। এই দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘প্রজেক্ট ১৭ আলফা’ (P-17A)-এর অংশ, যা দেশের সামরিক ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এই প্রকল্পের মোট বাজেট প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা।
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ
এই দুটি ফ্রিগেটই সম্পূর্ণরূপে ভারতে তৈরি হয়েছে। আইএনএস উদয়গিরি মুম্বাইয়ের মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এ তৈরি হয়েছে, আর আইএনএস হিমগিরি তৈরি হয়েছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এ। এই জাহাজগুলোতে “ইন্টিগ্রেটেড মডুলার কনস্ট্রাকশন” প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নির্মাণ সময় কমিয়ে দেয় এবং গুণগত মান নিশ্চিত করে। এটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
কী কী আছে এই ফ্রিগেটে?
এই যুদ্ধজাহাজগুলো শুধু আকারের দিক থেকেই বড় নয়, এদের প্রযুক্তিও উন্নত।
স্টেলথ প্রযুক্তি: এই ফ্রিগেটগুলোতে এমন বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়বে না। রাডার-শোষক কোটিং ব্যবহার করে এদের রাডার এবং ইনফ্রারেড সিগনেচার কমানো হয়েছে।
শক্তিশালী ইঞ্জিন: জাহাজ দুটি CODAG প্রপালশন সিস্টেমে চলে, যাতে দুটি ডিজেল ইঞ্জিন এবং দুটি গ্যাস টারবাইন রয়েছে। এর ফলে এটি ২৮ নট গতিতে চলতে পারে এবং ৫,৫০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে।
অত্যাধুনিক অস্ত্র: উদয়গিরি ও হিমগিরি উভয়ই বহুমুখী অভিযানে সক্ষম। এতে ব্রাহ্মোস সুপারসনিক মিসাইল, বারাক-৮ (ইন্দো-ইসরায়েলি LRSAM), ৭৬ মিমি নেভাল গান, টর্পেডো এবং সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ ক্ষমতা রয়েছে।
ইলেকট্রনিক যুদ্ধ: শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আটকানোর এবং জ্যাম করার জন্য এই জাহাজগুলোতে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ স্যুট রয়েছে। সাবমেরিন ও অন্যান্য হুমকি শনাক্ত করতে এখানে HUMSA-NG সonar ও CMS-17A কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও রয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই দুটি জাহাজ ছাড়াও আরও চারটি P-17A ফ্রিগেট—তারাগিরি, মহেন্দ্রগিরি, ডোনাগিরি ও বিন্ধ্যগিরি— আগামী এক বছরের মধ্যে নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। এই যুদ্ধজাহাজগুলো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে এবং দেশের সামুদ্রিক সীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।