পন চেয়ে নির্মম অত্যাচার! সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা স্কুল শিক্ষিকার

পণের বলি আরও দুই প্রাণ। এবার রাজস্থানের জয়পুরে এক স্কুল শিক্ষিকা তার তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যখন ওই শিক্ষিকার স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য বাড়িতে ছিলেন না। তিন বছরের শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়, আর শিক্ষিকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার স্কুল থেকে ফিরে ওই শিক্ষিকা নিজের এবং মেয়ের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তার মৃত্যুর আগে লেখা একটি চিঠিতে তিনি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে পণের জন্য অত্যাচার ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষিকার মৃত্যুর পর তার দেহ নিয়ে বাবা-মা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। পরে ময়নাতদন্তের পর পুলিশ শিক্ষিকা এবং তার মেয়ের মরদেহ বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়। শিক্ষিকার বাবা তার জামাইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে গ্রেটার নয়ডায় নিক্কি নামে এক তরুণীকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পণের জন্য পুড়িয়ে মেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিক্কির দিদি জানান, ২০১৬ সালে বিয়ের ছয় মাস পর থেকেই নিক্কির উপর নির্যাতন শুরু হয়। নিক্কি এবং তার দিদি, দুজনেই একই বাড়িতে বিয়ে করেছিলেন। তাদের দুজনের কাছেই ৩৬ লক্ষ টাকা পণ দাবি করা হয়েছিল।
নিক্কির দিদি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাকে এবং নিক্কিকে মারধর করেন। এরপর নিক্কির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিক্কি বাঁচার জন্য সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামার চেষ্টা করলেও পারেননি, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে নিক্কিকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। নিক্কির স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
এই দুটি ঘটনা আবারো আমাদের সমাজের এক অন্ধকার দিককে সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে পণের জন্য নারীরা নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন।