‘না খাইয়ে মারল!’ পণের বলি আরো এক তরুণী, তেলেঙ্গানায় গৃহবধূকে পিটিয়ে খুন স্বামীর

পণের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তেলেঙ্গানায় এক তরুণীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম লক্ষ্মী প্রসন্না। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল এবং খেতে না দিয়ে ও নিয়মিত মারধর করে মেরে ফেলেছে। এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় নিক্কি ভাটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দেয়।
পণ নিয়ে বিয়ের পর নির্যাতন
লক্ষ্মী প্রসন্নার পরিবারের দাবি, ২০১৫ সালে খানাখানপেটের পুলা নরেশ বাবুর সঙ্গে লক্ষ্মীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তারা পণ হিসেবে ২ একর আমবাগান, আধ একর চাষের জমি, ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না দিয়েছিলেন। এত কিছুর পরেও নরেশ এবং তাঁর পরিবার লক্ষ্মীকে আরও পণের জন্য চাপ দিতে থাকে।
গৃহবন্দি ও নির্যাতন
পরিবারের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে লক্ষ্মীকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাকে নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হতো না। ফোন ব্যবহারেও ছিল নিষেধাজ্ঞা। শনিবার সকালে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে লক্ষ্মী সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্মীকে কঙ্কালসার অবস্থায় দেখতে পান। তার শরীরে নতুন ও পুরনো একাধিক আঘাতের চিহ্নও ছিল। ওই দিনই অন্ধ্রপ্রদেশের রাজামহেন্দ্রবরম সরকারি হাসপাতালে লক্ষ্মীর মৃত্যু হয়।
পুলিশি তদন্ত শুরু
লক্ষ্মীর বাবা-মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি সন্দেহজনক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত স্বামী নরেশ, তার মা বিজয়লক্ষ্মী, বোন দাসারি ভূলা লক্ষ্মী এবং ভগ্নিপতি শ্রীনিবাস রাও-এর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
যদিও ভগ্নিপতি শ্রীনিবাস রাও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, লক্ষ্মী রক্তাল্পতা ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং মারধর বা খাবার না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে পুলিশের তদন্তেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।