ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে ওপার বাংলা! ৩ বছরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯%

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর সামনে এসেছে। গত তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর একটি নতুন গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
পিপিআরসি-র গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭০ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭.৯৩ শতাংশে, যা প্রায় ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ, মাত্র তিন বছরে দারিদ্র্য ৯.২৩ শতাংশ বেড়েছে।
অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও একই ভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে এই হার ছিল ৫.৬ শতাংশ, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৯.৩৫ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, গত কয়েক বছরে দারিদ্র্য কমার বদলে বরং অনেক বেড়েছে।
মানুষের আয়-ব্যয়ের হিসাব
পিপিআরসি-র গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক আয় তাদের খরচের তুলনায় কম। এসব পরিবার ধার করে সংসার চালাচ্ছে। অন্যদিকে, উচ্চবিত্তদের আয় তাদের খরচের চেয়ে বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ৩২,৬৮৫ টাকা, আর খরচ ৩২,৬১৫ টাকা। কিন্তু সমাজে বৈষম্য স্পষ্ট।
সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষ: মাসিক আয় ৮,৪৭৭ টাকা, কিন্তু খরচ ১২,২৯৪ টাকা।
মধ্যবিত্ত ৪০ শতাংশ মানুষ: মাসিক আয় ২৮,৮১৮ টাকা, আর খরচ ২৯,৭২৭ টাকা।
সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষ: মাসিক আয় ১ লক্ষ ৯ হাজার ৩৯০ টাকা, আর খরচ ১ লক্ষ ১ হাজার ১৬৩ টাকা।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা
সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ১২.২ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবেলা না খেয়ে থাকেন। আর ৯ শতাংশ মানুষ মাসে অন্তত একদিন না খেয়ে থেকেছেন। এর থেকে বোঝা যায়, নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা কতটা বেশি।
একটি পরিবারের মোট খরচের ৫৫ শতাংশই চলে যায় খাবার কিনতে। বাকি টাকা ব্যয় হয় শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং আবাসন খাতে।
দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণ
গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. কোভিড মহামারীর প্রভাব: মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২. মুদ্রাস্ফীতি: দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।
৩. রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: দেশে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
গত এপ্রিল মাসে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল যে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসার সম্ভাবনা কম। উল্টো, এই বছরে আরও প্রায় ৩০ লাখ মানুষ অতি দরিদ্র হবে। পিপিআরসি-র নতুন গবেষণা সেই পূর্বাভাসকেই সমর্থন করছে।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকার এবং নীতি নির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।