হোটেলে বার ডান্সার, বাড়িতে মহিলা, গাছে ঝুলছে বৃদ্ধের দেহ, একই দিনে ৩ রহস্য মৃত্যু

কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকায় একদিনের মধ্যে তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটি গেস্ট হাউস, একটি পিকনিক স্পট এবং একটি বাড়ি থেকে মোট তিনটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাগুলি ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে এবং পুলিশ প্রতিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসের কাছে একটি গেস্ট হাউসে। রবিবার রাতে ২৭ বছর বয়সী এক বার ডান্সার তার পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে সেখানে আসেন। ওই তরুণীর বাড়ি লুধিয়ানায়। সোমবার সকালে তার সঙ্গীই তাকে অসুস্থ অবস্থায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গেস্ট হাউসে প্রায়ই অচেনা লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় এবং কাছেই একটি পানশালা থাকায় আগেও এলাকায় অশান্তি হয়েছে। এদিকে, যে পুরুষ সঙ্গী ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, তিনি এখন পলাতক। পুলিশ তাকে খুঁজছে এবং খতিয়ে দেখছে যে অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মৃত্যু হয়েছে কিনা।
একই দিনে আনন্দপুর থানার কাছে একটি পিকনিক স্পটে আরও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে। মাটি থেকে প্রায় ২৫-৩০ ফুট উঁচু একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
এখনও পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ এই ঘটনাটি আত্মহত্যা না খুন, তা খতিয়ে দেখছে। দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তৃতীয় ঘটনাটি সোমবার বিকেলে আনন্দপুর এলাকার নোনাডাঙায় ঘটে। পুলিশ একটি বাড়ির বিছানা থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যা। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই এই নোনাডাঙা খাল থেকে দুই তরুণ-তরুণীর জোড়া দেহ উদ্ধার হয়েছিল। ওই ঘটনায় রোহিত আগরওয়াল নামে এক যুবক এবং রণিতা বৈদ্য নামে এক যুবতীর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছিল যে তারা দু’জন একসঙ্গে স্কুটার চালানো শিখছিলেন এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাদের রাতে খালের পাশে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল।
একই থানা এলাকায় পরপর এমন একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনার কারণ উদঘাটনে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে।