ইশিতা কলকাতায় পড়তে যাচ্ছিল, প্রেমিকা দূরে চলে যাবে, সেই রাগেই কি গুলি?

১৯ বছর বয়সী দেশরাজ সিং নামে এক যুবক তার ১৮ বছর বয়সী প্রেমিকা ইশিতা মল্লিককে কৃষ্ণনগরে তার নিজ বাড়িতে গুলি করে হত্যা করার পর রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে, যখন অভিযুক্ত যুবক ইশিতার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

কৃষ্ণনগরে জন্ম ইশিতার, কিন্তু পড়াশোনার কারণে তার পরিবার উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় বসবাস শুরু করে। সেখানেই একটি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে সে পড়াশোনা করত। সেখানেই তার পরিচয় হয় দেশরাজের সঙ্গে, যে আদতে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা। দেশরাজের বাবা NDRF কর্মী হওয়ার সুবাদে তারা বীজপুরে ভাড়া বাড়িতে থাকত। একই স্কুলে পড়ার কারণে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়, যা পরে প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।

গত বছর তারা দুজনেই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ইশিতা কৃষ্ণনগরে ফিরে আসে এবং কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু দেশরাজ ম্যানেজমেন্ট পড়ার অজুহাতে এক বছর পড়া থেকে বিরতি নেয়। এই সময়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। ইশিতা এবং দেশরাজের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, তাদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল এবং ইশিতা এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।

খুনের নেপথ্যে কি ল’ কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত?
সম্প্রতি ইশিতার বাবা তাকে কলকাতার একটি ল’ কলেজে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার কলকাতায় যাওয়ার কথা ছিল তাদের, কিন্তু কিছু কারণে তা একদিন পিছিয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তই হয়তো তাদের সম্পর্কের চূড়ান্ত টানাপোড়েনের কারণ হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ইশিতার কৃষ্ণনগরে ফিরে আসা এবং পরে কলকাতায় পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্তই দেশরাজকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। সে হয়তো লং ডিসট্যান্স সম্পর্ক চালিয়ে যেতে রাজি ছিল না।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ইশিতার সম্পর্ক ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত এবং তার কলকাতায় পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ হয়েই দেশরাজ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেশরাজকে জেরা করার পরেই এই খুনের আসল কারণ সামনে আসবে।

এই ঘটনাটি আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ক ভাঙার মতো পরিস্থিতিতে সহিংসতা বেছে নেওয়ার প্রবণতা কি বাড়ছে? সমাজের প্রতিটি স্তরে এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা কতটা জরুরি, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।