লিভার দান করেও বাঁচাতে পারলেন না স্বামীকে, অবশেষে মারা গেলেন স্ত্রীও

পুনের এক দম্পতির মর্মান্তিক পরিণতিতে পুরো শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বামী বাপু কোমকারকে বাঁচাতে নিজের লিভারের একটি অংশ দান করেছিলেন স্ত্রী কামিনী কোমকার। কিন্তু এই মহান আত্মত্যাগ সত্ত্বেও স্বামীকে বাঁচানো যায়নি, এবং এর কয়েকদিন পর তিনিও মারা যান।

১৫ আগস্ট পুনের সাহ্যাদ্রি হাসপাতালে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। বাপু ও কামিনী একই সঙ্গে লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষে যান। কিন্তু ১৭ আগস্ট বাপু মারা যান। এরপর স্বামীর মৃত্যুর মাত্র চারদিন পর কামিনীও সংক্রমণের কারণে মারা যান।

পরিবার এই মৃত্যুর জন্য চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনেছে এবং একটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. নাগনাথ ইয়েমপালে জানিয়েছেন, তারা হাসপাতালকে সব প্রাসঙ্গিক তথ্য, যেমন রোগী ও দাতার চিকিৎসার বিবরণ এবং ভিডিও রেকর্ডিং জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে লিভার প্রতিস্থাপন একটি অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার এবং বাপু কোমকার একজন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগী ছিলেন। অস্ত্রোপচারের আগে পরিবারকে সম্ভাব্য সব ঝুঁকির বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বাপু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং কামিনী প্রথমে সুস্থ থাকলেও পরে সেপটিক শক ও একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই দুঃখজনক ঘটনায় কোমকার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও চূড়ান্ত আত্মত্যাগের এক করুণ গল্প হয়ে থাকবে।