PM মোদীর পড়াশোনা কতদূর?-ডিগ্রি দেখাতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়, মামলায় জানাল হাইকোর্ট

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির নথি প্রকাশ করার জন্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাধ্য করা যাবে না। সোমবার দিল্লি হাই কোর্ট এই রায় দিয়েছে, যা কার্যত কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের (CIC) পূর্বের একটি নির্দেশকে খারিজ করে দিয়েছে। ২০১৬ সালে সিআইসি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৯৭৮ সালের বিএ ব্যাচের সমস্ত রেকর্ড প্রকাশ করার অনুমতি দিয়েছিল, যে ব্যাচে প্রধানমন্ত্রী মোদী পরীক্ষা দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আদালতে আপিল করে এবং ২০১৭ সাল থেকে এই আইনি লড়াই চলছিল।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার অধিকার (Right to Privacy) তথ্য জানার অধিকারকে (Right to Information) ছাড়িয়ে যেতে পারে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন যে, কারও ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে প্রকাশ করা আইনসঙ্গত নয় এবং এটি শুধুমাত্র কৌতূহল মেটানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা জনস্বার্থের আওতায় পড়ে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। আরটিআই আইনের ৬ নং ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে, তথ্য প্রকাশ সবসময় জনস্বার্থেই হতে হবে। যদি আদালতের পক্ষ থেকে নির্দেশ আসে, তবে তারা সেই নথি জমা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

২০১৬ সালে সিআইসির নির্দেশের পর থেকেই এই মামলার সূত্রপাত হয়। ২০১৭ সালে প্রথম শুনানিতেই দিল্লি হাই কোর্ট সিআইসির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর সোমবার আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে সিআইসির নির্দেশ বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে, আরটিআই আইনের অধীনে সাধারণ মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডিগ্রির তথ্য প্রকাশযোগ্য নয়।