গুজরাট-মহারাষ্ট্রের প্রভাব এবার শিল্পাঞ্চলে! গণেশের মাথায় মুকুটের পরিবর্তে রাজকীয় পাগড়ি, কেন এই বদল?

আর চিরাচরিত মুকুট নয়, এবার দুর্গাপুরের কুমোরটুলিতে তৈরি গণেশের মাথায় দেখা যাচ্ছে রাজকীয় পাগড়ি। গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের গণেশ পুজোর ঐতিহ্যের ছোঁয়া লেগেছে বাংলার শিল্পাঞ্চলে, যা রীতিমতো অবাক করেছে স্থানীয়দের। মৃৎশিল্পীরা বলছেন, ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী এই পরিবর্তন এসেছে।
কেন এই পরিবর্তন?
মৃৎশিল্পী অভিজিৎ পাল জানান, গত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে গণেশ পুজোর জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। আগে এখানে প্রধানত কর্মের দেবতা বিশ্বকর্মার পূজা হতো। কিন্তু এখন পারিবারিক থেকে শুরু করে বারোয়ারী, সব ধরনের গণেশ পুজোই ব্যাপক হারে হচ্ছে। এই নতুন প্রজন্মের ভক্তরা গণেশের মূর্তিতে নতুনত্ব খুঁজছেন।
গুজরাট ও মহারাষ্ট্রে গণেশ চতুর্থীর সময় গণেশকে পাগড়ি পরিয়ে সাজানোর প্রচলন আছে। এই পাগড়ি জ্ঞান, ঐতিহ্য এবং মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। সেই প্রথাই এখন দুর্গাপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অভিজিৎ পাল বলেন, “এখন সবাই বড় বড় রঙিন পাগড়ি লাগানো গণেশের মূর্তি পছন্দ করছেন। চিরাচরিত মুকুটের চাহিদা কমে গেছে।”
মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা
বিশ্বকর্মা পুজো এবং দুর্গাপূজার ঠিক আগে গণেশ চতুর্থী আসায় এখানকার মৃৎশিল্পীরা এখন খুবই ব্যস্ত। দুর্গাপুরের কুমোরটুলিতে ১২ ইঞ্চি থেকে শুরু করে ১২ ফুট পর্যন্ত নানা আকারের গণেশ মূর্তি তৈরি হচ্ছে। ৫০০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে এসব মূর্তি বিক্রি হচ্ছে।
পুরোহিত মিলন চক্রবর্তী এবং অসিত চক্রবর্তী জানান, মহারাষ্ট্রের অবাঙালিদের মধ্যে গণেশ পুজো একটি প্রধান উৎসব। সেখানেই গণেশকে পাগড়ি পরানোর ঐতিহ্য চলে আসছে। সময়ের সাথে সাথে এখন বাংলার গণেশ পুজোতেও এই নতুনত্ব এসেছে। এই পরিবর্তন শুধু একটি সাজের নয়, বরং সংস্কৃতির সংমিশ্রণেরও প্রতীক।