‘নিজের বক্তব্যের বাণিজ্যকরণ করে, অন্যের অনুভূতিতে আঘাত করা যায় না’, কমেডিয়ানদের কড়া হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের!

কৌতুকশিল্পীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য এবার কড়া বার্তা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষভাবে সক্ষম এবং বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষদের নিয়ে রসিকতা করার জন্য সোমবার শীর্ষ আদালত জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী সময় রায়না সহ আরও কয়েকজন কমেডিয়ানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যখন কেউ নিজের বক্তব্যকে বাণিজ্যিকরণ করেন, তখন কোনও সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করার অধিকার তার থাকে না।
মামলার প্রেক্ষাপট
‘কিওর এসএমএ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া’ নামের একটি সংস্থা এই কমেডিয়ানদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। এই সংস্থাটি ‘স্পাইনাল মাসকিউলার অ্যাট্রোফি’ রোগে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ায়। সময় রায়না, বিপুন গয়াল, বলরাজ পরমজিৎ সিং ঘাই, সোনালি ঠক্কর এবং নিশান্ত জগদীশ তানওয়ারের মতো কৌতুকশিল্পীরা তাদের স্ট্যান্ড-আপ শো-তে এই রোগ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করছিল। বিচারপতিরা বলেন, “হাস্যরস জীবনের একটি অংশ, এবং আমরা নিজেদের নিয়েও মজা করতে পারি। কিন্তু যখন সেই মজা অন্যের অনুভূতিকে আঘাত করে, তখন তা সংবেদনশীলতার সীমা লঙ্ঘন করে।”
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “ভারত একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ, যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায় রয়েছে। আজকের তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন নিজেদের বক্তব্যকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছেন, তখন তারা কোনও সম্প্রদায়কে ব্যবহার করতে বা তাদের ভাবাবেগে আঘাত করতে পারেন না।”
বিচারপতিরা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজ বিশেষভাবে সক্ষমদের নিয়ে বলা হচ্ছে, কাল হয়তো মহিলা, প্রবীণ নাগরিক বা শিশুদের নিয়েও বলা হবে। কোথায় গিয়ে এটা থামবে?”
ক্ষমা ও দায়বদ্ধতা
কৌতুকশিল্পীদের আইনজীবীরা আদালতে জানান যে, তারা নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে বিচারপতিরা এতে সন্তুষ্ট নন। তারা বলেন, শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না, নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
আদালত জরিমানা করার পরিবর্তে বিকল্প প্রস্তাবও বিবেচনা করে। আইনজীবীর পক্ষ থেকে বলা হয়, জরিমানা না করে কমেডিয়ানদের তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য সচেতনতা বাড়াতে বলা যেতে পারে। এই প্রস্তাবটি কমেডিয়ানরাও মেনে নিয়েছেন।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কমেডিয়ানদের নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করতে হবে এবং আদালতে জানাতে হবে তারা এই ভুলের জন্য কী ধরনের প্রায়শ্চিত্ত করতে চান। এই রায়কে অনেক বিশেষজ্ঞ মুক্ত বক্তৃতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য হিসেবে দেখছেন।