গগনযানের জন্য ইসরোর বড় সাফল্য, নিরাপদ অবতরণের পরীক্ষা সফল!

মহাকাশে মানুষ পাঠানোর জন্য ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী গগনযান (ISRO Gaganyaan mission) মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর মধ্যে একটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মহাকাশ থেকে নভোচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার জন্য যে বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন, তার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। এই পরীক্ষাটির নাম ছিল ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ড্রপ টেস্ট (IADT)।
কী পরীক্ষা করা হলো?
গগনযানের ক্রু মডিউল বা যে ক্যাপসুলে নভোচারীরা থাকবেন, সেটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার পর যাতে নিরাপদে অবতরণ করতে পারে, তার জন্য একটি বিশেষ প্যারাসুট ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় সেই প্যারাসুট ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।
কীভাবে পরীক্ষাটি করা হলো?
ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি C-17 গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল এই পরীক্ষার জন্য। বিমানটি ৪.৫ কিলোমিটার বা প্রায় ১৪,৭০০ ফুট উচ্চতা থেকে গগনযানের একটি প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক মডেল নিচে ফেলে দেয়। সেই সময় বিমানটি ঘণ্টায় প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। এই প্রোটোটাইপটি বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট একটি স্থানে ফেলা হয়েছিল।
প্যারাসুট কীভাবে কাজ করে?
বিমান থেকে প্রোটোটাইপটি নিচে পড়ার সাথে সাথেই একটি নির্দিষ্ট ক্রমে প্যারাসুটগুলো খুলতে শুরু করে। প্রথমে ছোট ছোট প্যারাসুট খুলে এর গতি কমিয়ে দেয়। এরপর প্রায় ৬০০ বর্গমিটারের বিশাল প্রধান প্যারাসুটগুলো খুলে যায়। এই বড় প্যারাসুটগুলোই ধীরে ধীরে প্রোটোটাইপটিকে নিরাপদে সমুদ্রের জলে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে।
গগনযান কবে মহাকাশে যাবে?
ইসরো প্রধান ভি. নারায়ণনের মতে, গগনযানের প্রথম মনুষ্যবিহীন মিশন এই বছরের ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণ করা হবে। এই মিশনে নভোচারীদের বদলে ব্যোমমিত্র নামের একটি মানব আকৃতির রোবট পাঠানো হবে। ভারতের প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশ অভিযান ২০২৭ সালের প্রথম দিকে শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই সফল পরীক্ষা গগনযান মিশনের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে ভারতের মহাকাশ যাত্রাকে আরও সুরক্ষিত করবে।