ডিভিসি থেকে ছাড়া হচ্ছে জল, ফুলে ফেঁপে উঠছে একাধিক নদী, বন্যার আশঙ্কায় মানুষজন!

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ডিভিসি-র জল ছাড়ার কারণে হুগলি ও বাঁকুড়ার একাধিক নদীর জলস্তর বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্যার ভয় তৈরি হয়েছে।

রবিবার সকালে রূপনারায়ণ নদী বিপদসীমা পার করেছে। এছাড়া দামোদর, মুন্ডেশ্বরী এবং দ্বারকেশ্বর নদীর জলও বাড়ছে। ডিভিসি জানিয়েছে, তারা ৫২,৫৫০ কিউসেক হারে জল ছাড়ছে, যা নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

জল বাড়ার কারণে হুগলির আরামবাগ ও খানাকুল মহকুমার নিচু এলাকার বাসিন্দারা চিন্তিত। খানাকুলের সেকেন্দারপুরে একটি কাঁচাবাড়ি ভেঙে পড়েছে। বাড়ির মালিক শেখ নাসিরুদ্দিন বলেন, তাঁর নাম সরকারি আবাসন প্রকল্পে থাকলেও তিনি এখনও বাড়ি পাননি। তিনি এবং তাঁর পরিবার ত্রিপল খাটিয়ে থাকছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান জানিয়েছেন, তাঁরা পরিবারটিকে খাবার ও ত্রিপল দিয়েছেন এবং সরকারি সাহায্যে নতুন বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করবেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। হুগলি জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিংহ জানিয়েছেন, রূপনারায়ণের জলস্তর প্রাথমিক বিপদসীমা পার করেছে। অন্যদিকে, বাঁকুড়ায় বৃষ্টি কমায় বড় বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে খানাকুলের বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া জানিয়েছেন, নদীর জল বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি পঞ্চায়েতগুলোকে সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং যেকোনো জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এই জল বৃদ্ধির কারণে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার আগে এমন বন্যা হলে তাদের প্রস্তুতিও ব্যাহত হবে। সেচ দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করছে। যেকোনো জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য তারা প্রস্তুত।