“১৪ বছর ধরে মুম্বইয়ে কাজ”- বাংলাদেশি ‘তকমা’ নিয়ে বাংলায় ফিরলেন সাইফুল

টানা ১৪ বছর ধরে মুম্বইয়ের একটি কারখানায় কাজ করছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করে হেনস্থা করা শুরু হয়। মারধরও করা হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবার নিয়ে পালিয়ে একটি মন্দিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা সাইফুল শেখের সঙ্গে।
৪০ বছর বয়সী সাইফুল প্রায় ১৪ বছর আগে মুম্বইয়ের দাদর এলাকায় একটি কারখানায় কাজ শুরু করেন। স্ত্রী ও ১৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে সেখানেই থাকতেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় কিছু বাসিন্দা এবং পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে হেনস্থা করা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণে তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি পুলিশও মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এই পরিস্থিতিতে কারখানার মালিক কাজ বন্ধ করে দেন এবং বাড়িওয়ালাও ঘর ছেড়ে দিতে বলেন।
অন্যান্য বাঙালি শ্রমিকরা কোনোভাবে মুম্বই ছেড়ে পালিয়ে গেলেও পরিবার থাকায় আটকে পড়েন সাইফুল। টানা তিন দিন একটি মন্দিরে লুকিয়ে থাকার পর তিনি এলাকার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘এক ডাকে অভিষেক’ প্রকল্পে ফোন করেন। এরপরই স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য বাবান গাজি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ট্রেনে ফেরার জন্য কিছু টাকা পাঠান। কোনোমতে প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেটে পরিবার নিয়ে ট্রেনে ওঠেন সাইফুল এবং বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরেন।
মুম্বইয়ের সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সাইফুল এখনও আতঙ্কিত। তিনি বলেন, “১৪ বছর ধরে সেখানে ছিলাম, কিন্তু এভাবে সবকিছু বদলে যাবে ভাবিনি। এখন আর বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। এলাকায় ভিক্ষা করে খাব, তবুও আর মার খেতে যাব না।”
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরই তাঁরা সাইফুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলায় কথা বলার জন্য এভাবে হেনস্থা করা খুবই দুঃখজনক। মুখ্যমন্ত্রীও পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”