বাংলাদেশের ভোটেও এবার ভারতীয় পদ্ধতি, নির্বাচনের আগে বড় বদলের প্রস্তাব?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন (EC) দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। সম্প্রতি, তারা একটি নতুন ‘সংশোধনী অধ্যাদেশ’-এর খসড়া তৈরি করেছে, যাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ‘নো ভোট’ অপশন চালু করা, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রার্থীদের একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সীমা নির্ধারণ। ঢাকা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
‘নো ভোট’ অপশন: নতুন দিগন্তের সূচনা?
ভারতের ‘NOTA’ (None of the Above)-এর মতো একটি বিকল্প এবার বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাতেও যুক্ত হতে পারে। প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকেন, তাহলেও তাকে ‘নো ভোট’-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এক্ষেত্রে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ নির্বাচিত বলে ঘোষিত হবেন না।
যদি কোনো কেন্দ্রে ‘নো ভোট’ প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা কোনো প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে সেই আসনে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নিয়মটি ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে চালু হয়েছিল, কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এটি বাতিল করা হয়েছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে যে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে বাংলাদেশ আর্মি, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীকে নিযুক্ত করা হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, কারণ ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়েছিল। এরপর থেকে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে শুধু ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবেই মোতায়েন করা হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। এখন থেকে, যদি কোনো নির্বাচনী এলাকায় কারচুপি ধরা পড়ে, তাহলে নির্বাচন কমিশন পুরো এলাকার ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে পারবে। এর আগে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এই ক্ষমতা বাতিল করে দিয়েছিল।
এছাড়াও, কোনো নির্বাচিত প্রার্থীর হলফনামা বা আয়-ব্যয়ের বিবরণে কোনো অসঙ্গতি বা মিথ্যা তথ্য পাওয়া গেলে, পাঁচ বছরের মধ্যেই তার পদ বাতিল করা হবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাসুদ জানিয়েছেন, “খসড়া প্রায় প্রস্তুত। শুধু প্রবাসী ভোটারদের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এরপরই এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
এই প্রস্তাবগুলো যদি আইনে পরিণত হয়, তাহলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এটি একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করতে সাহায্য করবে।