“জেল থেকে কেন সরকার চালানো হবে?”-নতুন বিল নিয়ে বিরোধীদের তোপ প্রধানমন্ত্রীর

সদ্য পেশ হওয়া ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। এই বিল অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কোনো মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকলে তাকে পদ ছাড়তে হবে। এই বিলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে শুক্রবার বিহারের জনসভা থেকে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, “কেন একজন জেলবন্দি মন্ত্রীকে সরকার চালাতে দেওয়া হবে? এটা কি উচিত? কলঙ্কিত নেতাদের কি পদে বহাল থাকা উচিত?” তিনি আরও বলেন যে, দেশের মানুষ তাদের নেতাদের কাছ থেকে নৈতিক সততা আশা করে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই নতুন বিলকে হাতিয়ার করে তিনি বিরোধীদের একহাত নিলেন।
কী আছে এই নতুন বিলে?
সংসদে তিনটি নতুন বিলের মধ্যে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, ২০২৫ অন্যতম। এই বিলের প্রধান লক্ষ্য হলো:
যদি কোনো প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনো মন্ত্রী পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে এমন কোনো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হন, এবং ৩০ দিন বা তার বেশি সময় জেলে থাকেন, তাহলে ৩১তম দিনে তার পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খারিজ হয়ে যাবে।
এই নিয়ম কার্যকর হবে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই।
কেন বিরোধীরা আপত্তি করছেন?
এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করছে কংগ্রেস ও তৃণমূলসহ সব বিরোধী দল। তাদের অভিযোগ, এই আইন দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিলকে ‘ভারতের গণতন্ত্রের ওপর হিটলারি আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই বিল বিচার বিভাগের ক্ষমতা কেড়ে নেবে এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে নষ্ট করবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই বিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে নয়, বরং ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিজেপির একটি কৌশল। তিনি বলেন, যদি তদন্তকারী সংস্থা ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে সেই কর্মকর্তাদেরই দ্বিগুণ সময় জেলে থাকতে হবে।
বিরোধীদের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী দল-শাসিত রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চায়। বিল পেশের সময় সংসদ কক্ষেও তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোল হয়।