ডাকা হয়নি অ্যাম্বুল্যান্স, রক্তের দাগ ধুতেই ব্যস্ত স্কুল, আমেদাবাদের ছাত্র খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

গুজরাটের আহমেদাবাদের একটি স্কুলে এক দশম শ্রেণির ছাত্রকে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ গুরুতর আহত ছাত্র নয়ন সনতানিকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে, তার রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য দ্রুত জলের গাড়ি ডেকেছিল। পুলিশের দাবি, এই গাফিলতির কারণেই ছাত্রটি সময় মতো চিকিৎসা পায়নি এবং মারা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট সেভেনথ ডে অ্যাডভেনটিস্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্র পুরনো ঝামেলার জেরে নয়নকে ছুরি মারে। ঘটনার পর প্রায় ৩০ মিনিট ধরে নয়ন রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুলের ভেতরে পড়ে ছিল। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও সেই রাতে তার মৃত্যু হয়।
নয়নের পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানেই বেরিয়ে আসে এই ভয়ঙ্কর তথ্য।
অ্যাম্বুল্যান্সের বদলে জলের গাড়ি: বেশ কিছু অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, আহত নয়নকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়নি। উল্টো, তার রক্তের দাগ মুছে ফেলার জন্য পুরসভার জলের গাড়ি ডাকা হয়।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: তদন্তকারীদের সন্দেহ, স্কুল কর্তৃপক্ষ হয়তো প্রমাণ লোপাটের জন্য এই কাজ করেছিল। অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা তাদের কাছে জরুরি ছিল না।
শিক্ষক-কর্মীদের নিস্পৃহতা: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুলের কোনো শিক্ষক বা নিরাপত্তা কর্মী ১০৮ নম্বরে ফোন করে জরুরি সাহায্য চাননি। নয়নের এক বন্ধু এক রিকশাচালকের সাহায্য নিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। নয়নের সহপাঠীরাই তার সঙ্গে ছিল।
আহমেদাবাদ পুলিশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৩০ মিনিট ধরে রক্তক্ষরণের কারণে নয়নের বাঁচার আশা কমে গিয়েছিল। কেন অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়নি এবং কেন হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা দপ্তরও এই ঘটনার তদন্ত করছে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ নয়নকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জরুরি সাহায্য চায়নি। শিক্ষা দপ্তর এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করবে।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ পাল্টা দাবি করেছে যে, তারা ১০৮ নম্বরে ফোন করেছিল, কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স সময় মতো আসেনি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুলের কোনো কর্মী নয়নের সঙ্গে হাসপাতালে যাননি, তাকে তার বন্ধুরাই নিয়ে গিয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন অভিভাবকরা স্কুলে ভাঙচুরও করেন।