“সরকারি কর্মীরা জেলে থাকলে চাকরি যায়, মন্ত্রীদের নয় কেন?'”-বড় প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীরা জেলে গেলে তাদের চাকরি চলে যায়, তাহলে মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীরা জেলে গেলে কেন তাদের পদ যাবে না? এই প্রশ্নটি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিহারের গয়ায় এক জনসভা থেকে তিনি বলেন, “জেলের ভেতর থেকে ফাইলে সই করবেন, এটা কীভাবে হতে পারে?” তিনি আরও বলেন যে, বাবা সাহেব আম্বেদকরও ভাবেননি যে ক্ষমতায় থাকা মানুষরা এভাবে দুর্নীতি করবেন এবং জেলে গিয়েও দুর্নীতি চালিয়ে যাবেন।

সম্প্রতি লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনটি নতুন বিল পেশ করেছেন। এর মধ্যে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক চলছে। এই বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে, কোনো মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তার পদ চলে যাবে।

বিলের মূল বিষয়:

  • সংবিধানের ৭৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হবে।
  • যদি কোনো মন্ত্রী এমন কোনো অপরাধে গ্রেপ্তার হন যার জন্য ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে, এবং তিনি যদি টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে তাকে পদ ছাড়তে হবে।
  • এই নিয়ম প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

এই বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি বলেন, এটি একটি “ভয়ংকর চক্র”। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হবে এবং রাজ্য সরকারগুলোকে অস্থির করে তোলা হবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিলের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, এই বিল শুধু গণতন্ত্র নয়, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপরও একটি বড় আঘাত। তিনি এটিকে “অতিজরুরি অবস্থা”-র চেয়েও ভয়ঙ্কর বলে বর্ণনা করেছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি।