‘জেল থেকে সরকার চলবে না’, বিহারের মঞ্চ থেকে স্পষ্ট বার্তা মোদীর! বিরোধীদের নিশানা করলেন যেভাবে?

ভোটমুখী বিহারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুঝিয়ে দিলেন, এবারের নির্বাচনে তার মূল বিষয় হবে দুর্নীতি। বিহারে এক সভায় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “জেল থেকে সরকার চালানো চলবে না।” তার এই কথা যে বিরোধী দলগুলোকে লক্ষ্য করে বলা, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

কেন এই মন্তব্য?
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীকেও যদি ৫০ ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়, তাহলে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়। অথচ একজন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী জেলে বসে সরকার চালাতে পারেন। এটা কীভাবে সম্ভব?” এই কথা বলার পরেই তিনি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের নাম না করে তাকে নিশানা করেন।

মোদী বলেন, “আমরা আগেও দেখেছি, কীভাবে জেল থেকে সরকার চালানো হয়। ফাইল সই করা হয়। নেতারা যদি এমন হন, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা অসম্ভব।” তিনি আরও বলেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি জনপ্রতিনিধিকে সৎ হতে হবে। সেই কারণেই তার সরকার এমন একটি নতুন আইন আনতে চলেছে, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও নজরদারিতে রাখা হবে।

কী আছে নতুন বিলে?
বুধবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি নতুন বিল পেশ করেছেন। এই বিলটির নাম হলো ‘১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল’। এই বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনো মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী গুরুতর কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হন এবং আদালত তাকে ৩০ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠায়, তাহলে ঠিক ৩১ দিনের মাথায় তার পদ বাতিল হয়ে যাবে।

তবে এই বিল সংসদে পেশ হওয়ার পর থেকেই বিরোধী দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের বিরোধিতার কারণে বিলটি পাশ হতে পারেনি এবং সেটি এখন একটি বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।