কতক্ষণ থাকছে কৌশিকী অমাবস্যা? জানুন তারাপীঠে এবার মায়ের ভোগে কী থাকছে?

হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন তিথির মধ্যে কৌশিকী অমাবস্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যা তিথিটি তারাপীঠের মা তারার পূজার জন্য বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এই দিনেই তারাপীঠ মন্দিরে বিশেষ পূজা ও তন্ত্র সাধনার আয়োজন করা হয়। এই পবিত্র তিথির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি এবং সাধক বামাক্ষেপার সিদ্ধিলাভের ইতিহাস।
কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৫-এর সময়সূচি
- দিন: ২৩শে আগস্ট (৬ই ভাদ্র), শনিবার।
- অমাবস্যা তিথি: ২২শে আগস্ট সকাল ১১:৫৫ থেকে শুরু হয়ে ২৩শে আগস্ট সকাল ১১:২২ পর্যন্ত থাকবে।
এই দিনের বিশেষ গুরুত্ব কেন?
কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে তন্ত্র মতে ‘তারা রাত্রি’ বলা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে এই রাতে স্বর্গ এবং নরকের দরজা মুহূর্তের জন্য খুলে যায়। সাধকরা এই বিশেষ মুহূর্তে নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী শক্তি লাভ করতে পারেন এবং সিদ্ধিলাভ করতে পারেন।
- পৌরাণিক কাহিনি: মার্কণ্ডেয় পুরাণ অনুসারে, একসময় শুম্ভ-নিশুম্ভ নামক দুই অসুরের অত্যাচারে দেবতারা যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন, তখন দেবী মহামায়া নিজের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এক দেবীর জন্ম দেন। এই দেবীর নাম কৌশিকী, যিনি অযোনিসম্ভবা ছিলেন। দেবী কৌশিকী এবং তার শরীর থেকে সৃষ্ট অন্যান্য যোদ্ধারা মিলে সব অসুরদের বিনাশ করেন। এই ঘটনাটি ভাদ্র মাসের অমাবস্যায় ঘটেছিল, তাই এই তিথির নাম হয় কৌশিকী অমাবস্যা।
- বামাক্ষেপার সিদ্ধিলাভ: প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ১২৭৪ বঙ্গাব্দে এই কৌশিকী অমাবস্যাতেই সাধক বামাক্ষেপা তারাপীঠের শ্মশানে একটি শ্বেতশিমূল গাছের নিচে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেন এবং তারা মায়ের দর্শন পান। এই কারণে তন্ত্র সাধকদের কাছে এই দিনের গুরুত্ব অনেক বেশি।
তারাপীঠ মন্দিরে আয়োজন
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠ মন্দির কয়েকদিন আগে থেকেই সেজে ওঠে। দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত এই দিনে মন্দিরে ভিড় করেন।
- ভোরে মাকে স্নান করানো হয় এবং মঙ্গলারতির পর গর্ভগৃহ খুলে দেওয়া হয়।
- এই রাতে মন্দির সারারাত খোলা থাকে।
- সন্ধ্যায় মাকে বিশেষ ‘ডাকের সাজে’ সাজানো হয় এবং ভোগ নিবেদন করা হয়।
- গভীর রাতে মাকে খিচুড়ি, পোলাও, এবং পাঁঠার মাংস দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়।
বিশ্বাস করা হয় যে, এই তিথিতে তারাপীঠের দ্বারকা নদীতে স্নান করলে জীবনের সব পাপ মুছে যায় এবং তন্ত্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে সব বাধা-বিপত্তি দূর হয়।