ঘর থেকে উদ্ধার বাবা-মা, ছেলের থেঁতলানো রক্তাক্ত দেহ, নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোরগোল

দিল্লির ময়দানগড়ির খারক গ্রামে একটি বাড়িতে একই পরিবারের তিনজনের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতরা হলেন ৫০ বছর বয়সি প্রেম সিং, তাঁর স্ত্রী ৪৫ বছর বয়সি রজনী সিং এবং তাঁদের বড় ছেলে ২৪ বছরের ঋত্বিক সিং। এই ঘটনার পর থেকেই পরিবারের ছোট ছেলে সিদ্ধার্থ সিং নিখোঁজ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, মানসিক রোগে আক্রান্ত সিদ্ধার্থই তার বাবা, মা ও দাদাকে খুন করে পালিয়েছেন।
কী ঘটেছিল?
প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে পচা গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিলে, তারা এসে বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পুলিশ দরজার কাছে মেঝেতে প্রেম সিং এবং ঋত্বিক সিংয়ের থেঁতলানো দেহ দেখতে পায়। আর দোতলা থেকে উদ্ধার হয় হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় রজনী সিংয়ের মৃতদেহ। তিনটি দেহেই ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল, এবং ইট-পাথর দিয়ে থেঁতলানো হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে কিছু ইট ও পাথরের টুকরো পাওয়া গেছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
কেন সন্দেহ সিদ্ধার্থকে?
পুলিশের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্তে জানা গেছে, নিখোঁজ সিদ্ধার্থ সিং গত ১২ বছর ধরে মানসিক সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD) নামক রোগ ছিল।
পুলিশের সন্দেহ, সিদ্ধার্থই এই খুনের জন্য দায়ী। সম্প্রতি এক স্থানীয় ব্যক্তিকে সিদ্ধার্থ নিজেই বলেছিলেন যে তিনি তার বাবা, মা এবং দাদাকে খুন করেছেন এবং এই বাড়িতে আর থাকবেন না। এই তথ্য পুলিশের সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।
পুলিশ এখন সিদ্ধার্থকে খুঁজছে এবং তার মানসিক রোগের ইতিহাস নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত করছে। একইসঙ্গে, মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।