বি.টেক পাশ করেও চা বিক্রেতা! মেধাবী যুবক চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন, কোনও কাজই ছোট নয়

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি থাকার পরেও চাকরির অভাবে চায়ের দোকানকেই নিজের জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন এক মেধাবী যুবক। জলপাইগুড়ির ডিবিসি রোডের বাসিন্দা শুভদীপ ঘোষ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, সৎভাবে করা কোনো কাজই ছোট নয়। কিন্তু একইসাথে তাঁর এই ঘটনা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের করুণ বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
বাবার স্বপ্ন ও ছেলের সংগ্রাম
শুভদীপের বাবা শংকর ঘোষ ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে ভালো চাকরি করানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। ধার করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন, যাতে সংসারে স্বচ্ছলতা আসে এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়। কিন্তু বি.টেক পাশ করার পরেও চাকরির অনিশ্চয়তা তাঁদের সেই স্বপ্নকে ভেঙে দিয়েছে।
শংকর ঘোষের আক্ষেপ, “ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে ভেবেছিলাম সে ভালো চাকরি করবে, কিন্তু চাকরির বাজার এতটাই খারাপ যে প্রতিদিনই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।” এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই তিনি ছেলেকে নিজের বহু পুরোনো চায়ের দোকানে নিয়ে এসেছেন। আপাতত এই ছোট্ট দোকানটিই তাঁদের একমাত্র ভরসা।
কেন এই পরিস্থিতি?
শুভদীপ জানান, তিনি কিছু ছোটখাটো প্রজেক্টে কাজ পেলেও সেগুলো সবই ছিল অস্থায়ী। সরকারি বা বেসরকারি খাতে ভালো চাকরির সুযোগের অভাবই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বাধা। তিনি বলেন, বর্তমানে যে সব চাকরি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো বেশিরভাগই সেলস বিভাগে এবং বেতন খুব কম। এত টাকা খরচ করে পড়াশোনা করার পর সামান্য বেতনে সেলসের চাকরি করা কঠিন। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু বা পুনের মতো ভিন রাজ্যে বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতে গেলে আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
শুভদীপের এই ঘটনা শুধু তাঁর একার নয়, দেশের হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর জীবনের প্রতিচ্ছবি। অনেকেই মনে করছেন, উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়ে, তাহলে দেশের যুব সমাজ শিক্ষিত বেকার হয়ে ভুগবে। এই পরিস্থিতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান নীতির ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।