‘নোরা ফতেহির মতো ফিগার চাই..!’ দিনের পর দিন স্ত্রীর উপর অত্যাচার চালাত স্বামী, জুটত না খাবারও

এক অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে। স্বামীর ইচ্ছে, স্ত্রী যেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফতেহির মতো দেখতে হন। আর এই কারণে স্ত্রীকে প্রতিদিন তিন ঘণ্টা শরীরচর্চা করতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ, শরীরচর্চায় সামান্য কম হলে তাকে খেতেও দেওয়া হতো না। নির্যাতনের শিকার ওই মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অত্যাচারে বাধ্য করা হতো শরীরচর্চা
সানভি নামে ওই মহিলার অভিযোগ, তার স্বামী শিবম উজ্জ্বল একজন ফিটনেস সচেতন মানুষ এবং পেশায় স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক। বিয়ের পর থেকেই তিনি তার স্ত্রী সানভিকে প্রতিদিন অন্তত তিন ঘণ্টা করে শরীরচর্চা করতে বাধ্য করতেন। সামান্য ক্লান্তি বা শরীর খারাপের অজুহাত দিলেও তাকে খেতে দেওয়া হতো না।
মহিলা আরও জানান, তার স্বামী অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত এবং প্রায়ই তাকে অপমান করে বলতেন যে তাকে বিয়ে না করলে তিনি নোরার মতো কাউকে বিয়ে করতে পারতেন।
শারীরিক নির্যাতন ও গর্ভপাত
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি ওই মহিলার অভিযোগ, পণের জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হতো। বিয়ের সময় ৭৬ লক্ষ টাকা পণ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ২৪ লক্ষ টাকার গাড়ি ও ১০ লক্ষ টাকা নগদ ছিল। তা সত্ত্বেও তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আরও জমি ও নগদ টাকার দাবি করত। সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি হলো, তাকে জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়। সানভি যখন গর্ভবতী ছিলেন, তখন তাকে এমন খাবার দেওয়া হতো যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, যেখানে চিকিৎসকরা জানান যে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের কারণেই তার গর্ভপাত হয়েছে।
পুলিশের দ্বারস্থ মহিলা
এই সব অত্যাচারের কারণে সানভি হতাশায় ভুগতে শুরু করেন এবং বাবার বাড়িতে ফিরে যান। এরপরও তার স্বামী ভিডিও কলে তাকে গালাগাল ও বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দিতে থাকে। যখন তিনি শ্বশুরবাড়ি ফিরতে চান, তখন তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে অবশেষে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।