“৭৭৫ জন ভুয়ো ভোটার”-শ্বশুর, মামাকেই বাবা সাজিয়ে ভোটার কার্ড তৈরী বাংলাদেশিদের

গাইঘাটার পর এবার বাগদায় ভুয়ো ভোটার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাগদার এক বাসিন্দার ‘এপিক নম্বর’ (ভোটার কার্ডের নম্বর) ব্যবহার করে, তার বাবার নাম ও ঠিকানা বদলে অন্য এক ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। নিজের ভোটার কার্ড ফিরে পেতে বাগদার বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস এখন ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কী ঘটেছিল?

বাগদার কোনিয়ারা পঞ্চায়েতের রানিহাটি গ্রামের বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার। এর আগে তিনি এই বুথেই ভোট দিয়েছেন। কিন্তু গত বাগদা উপনির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তার নাম নেই। পরে তিনি জানতে পারেন যে তার এপিক নম্বর ব্যবহার করে রাজারহাটের এক ব্যক্তি তার নাম, বাবার নাম এবং ঠিকানা পরিবর্তন করে ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন।

বিজেপির অভিযোগ

এই ঘটনাকে সামনে এনে বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক ও বিজেপি নেতা দুলাল বর অভিযোগ করেছেন যে, এভাবে ‘মামাকে দাদা’ বা ‘শ্বশুরকে বাবা’ সাজিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বাগদা ব্লকের বয়রা পঞ্চায়েতে অন্তত ৭৭৫ জন ভুয়ো ভোটার রয়েছে।

দুলাল বর আরও বলেন, বয়রা অঞ্চলের তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি জাভেদ খানের মামা কবিরুল খান আসলে বাংলাদেশের নাগরিক। দুলালের অভিযোগ, কবিরুল তার বাবার নাম বদলে জাভেদের বাবার নাম দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। একই ভাবে, জাভেদের জ্যাঠার জামাই মাসুদ খানও শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। দুলাল দাবি করেন, মাসুদ ও কবিরুল উভয়ের নাম বাংলাদেশের ভোটার তালিকাতেও আছে।

তৃণমূলের জবাব ও প্রশাসনের ভূমিকা

বিজেপি নেতার এই অভিযোগ স্বীকার করে মিজানুর, যিনি জাভেদের জ্যাঠা, বলেন যে মাসুদ তার ভাইপোর মতো এবং মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, জাভেদ বলেছেন যে কবিরুল নামে তার কোনো মামা নেই এবং ভুল করে নাম এসেছে, যা তিনি বাদ দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে বাগদার বিডিও প্রসূন প্রামাণিক জানান, এমন দু-তিনটি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বনগাঁ জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “দুলাল বরকে বিজেপি মিছিল-মিটিংয়ে ডাকে না, তাই তিনি প্রচার পাওয়ার জন্য এসব করছেন।”