মাথার উপর খোলা আকাশ, সামনে টেবিল, মালদার হাটে রমরমা ভুয়া চিকিৎসকের চেম্বার, চলছে অস্ত্রোপচারও

মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের বিহার সীমান্তবর্তী গোবরাহাটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গ্রামের হাটে খোলা আকাশের নিচে টেবিল পেতে বসেছেন কিছু মানুষ, যারা নিজেদের চিকিৎসক বলে পরিচয় দেন। তাদের কারও কোনো ডাক্তারি ডিগ্রি বা লাইসেন্স নেই, অথচ তারা দাঁতের সমস্যা থেকে শুরু করে পাইলস, ফিসচুলা, এমনকি গর্ভবতীদের প্রসবও করিয়ে থাকেন। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর।

এসব ভুয়া চিকিৎসকের ‘চেম্বার’ বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে চলছে। হাটে দরদাম করার পর রোগীকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচারও করা হয়। এমন এক ‘চিকিৎসক’ রামিজুদ্দিন শেখ জানান, তিনি ১২-১৩ বছর ধরে এভাবেই হাট-বাজারে গরিব মানুষের চিকিৎসা করছেন। তার মতো আরও একজন, শেখ আতাউর, যিনি দাঁত তোলা ও বাঁধানোর কাজ করেন, জানান তার কোনো ডিগ্রি নেই, তবে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি চিকিৎসক হয়েছেন এবং এখন তার তিনটি আলাদা চেম্বারও রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন প্রতারণা চলছিল? স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এসব ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনো নজরদারি চালানো হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আবু হায়াত বলেন, “এরা প্র্যাকটিস করতে করতেই ডাক্তার হয়ে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। কারণ এখানে জীবন-মরণের প্রশ্ন।”

যদিও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তাপসকুমার মুখোপাধ্যায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় আমরা সেভাবে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে এসব অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।”

অন্যদিকে, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি ঘটনাটিকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি জেলাশাসকের নজরে এনেছেন। তিনি আরও বলেন, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা স্বাস্থ্য দফতরের নেই, এর জন্য পুলিশ প্রশাসন ও জেলাশাসকের অধীনস্থ সার্ভিল্যান্স টিমকে কাজ করতে হয়।

এদিকে, এই অঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষেরা মনে করছেন, এই ভুয়া চিকিৎসকরা অল্প খরচে তাদের চিকিৎসা দেন, যা চাঁচল বা মালদা শহরে করাতে গেলে অনেক খরচ হয়। তাই প্রশাসন যদি এদের হাট থেকে তুলে দেয়, তাহলে তাদের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে সমস্যা হবে। এই ঘটনা গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ দশাকেও তুলে ধরছে।