নতুন ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে ধর্মতলায় ধুন্ধুমার, পুলিশি লাঠিচার্জে আহত অনেকে; আটক বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী

নতুন ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বুধবার ধর্মতলায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘাত হয়, যার জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী-সহ আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে। আটক হওয়ার পর নওশাদ সিদ্দিকী পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে আইএসএফ-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন এদিন ধর্মতলায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, কয়েকশো কর্মী-সমর্থক নিয়ে বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য আগে থেকেই ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ কর্মকর্তারা নওশাদ-সহ অন্যান্য আইএসএফ নেতাদের কাছে বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া না দেওয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নওশাদ সিদ্দিকী-সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।

আটকের পর নওশাদকে লালবাজারের পরিবর্তে জোড়াসাঁকো থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি অসুস্থবোধ করছেন বলে জানান এবং একটি বেঞ্চে শুয়ে পড়েন। এরপরই তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে শারীরিক হেনস্তা করেছে এবং বুকে ঘুষি মেরেছে। যদিও কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

আটকের পর পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “বিজেপি যখন প্রতিবাদ করে, পুলিশ তখন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। অথচ আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ অতি তৎপর হয়ে লাঠিচার্জ করেছে। পুলিশের লাঠিতে আমাদের অনেক সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাঁদের দলের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে।