নন্দীগ্রাম নিয়ে বিশেষ বৈঠক করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পাল্টা কটাক্ষ সুকান্ত মজুমদারের

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। তিনি প্রতিটি জেলার নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করছেন, তবে শুধু নন্দীগ্রামের জন্য একটি বিশেষ বৈঠক করার কথা ঘোষণা করেছেন। এই বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও জানানো হয়নি।

নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেকের কৌশল
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতাদের নিয়ে একটি আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে নিচুতলা থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য অঞ্চল কমিটি ও ব্লক কমিটি গঠন করা হবে। নেতা-কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠন সাজানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূলের তমলুক সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বকে অভিষেক নির্দেশ দিয়েছেন, যারা দলের মধ্যে থেকে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। নন্দীগ্রাম আসনটি এই তমলুক সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত।

রাজনৈতিক চাপানউতোর
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই জয়ের পর থেকেই এই কেন্দ্রটি দুই দলের কাছেই মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: অভিষেকের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামে উনি নজর রাখতেই পারেন। কিন্তু, সেখানে আমরা জিতব।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন এমন একটি তাসের ঘরে পরিণত হয়েছে, যেটা বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর। ভেতরে শতছিন্ন, ফাটল।”

তৃণমূলের অবস্থান: অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব নন্দীগ্রামকে নিজেদের পাখির চোখ করে নিয়েছে। মমতাকে হারানোর পর শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে তৃণমূল সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চাইছে। অভিষেকের এই বিশেষ বৈঠক সেই লক্ষ্যেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।