“২৬০০০ চাকরি ফেরার আর আশা নেই!”-‘অযোগ্য’দের ১২% সুদ সহ কত টাকা ফেরত দিতে হবে?

পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) দুর্নীতির মামলায় অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করেছে। রাজ্য সরকারের দায়ের করা রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই রায়ের ফলে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে এবং অযোগ্য প্রার্থীদের সুদ-সহ প্রাপ্ত বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, যেসব প্রার্থী অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন, তাদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি এতদিন ধরে নেওয়া সমস্ত বেতনও ফিরিয়ে দিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যেহেতু এই নিয়োগগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে হয়েছে, তাই প্রার্থীরা বেতন রাখার কোনো অধিকার রাখেন না।
কারা বেতন ফেরত দেবেন?
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে কাদের বেতন ফেরত দিতে হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- যাঁরা ফাঁকা ওএমআর শিট জমা দিয়ে অথবা তাতে জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছিলেন।
- যাঁদের নাম প্যানেলে ছিল না, কিন্তু বেআইনিভাবে নিয়োগ পেয়েছেন।
- যেসব নিয়োগ মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে হয়েছে।
এই সমস্ত প্রার্থীদের ১২% সুদসহ তাদের পাওয়া বেতন ফিরিয়ে দিতে হবে। জানা গেছে, এই ধরনের প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার।
কাকে কত টাকা ফেরত দিতে হবে?
তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দেশনার ফলে বিভিন্ন পদে কর্মরত প্রার্থীদের মোটা অঙ্কের টাকা ফেরত দিতে হবে।
- নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক: ২০১৯ সাল থেকে বেতন পেলে একজন শিক্ষককে প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা (মূল বেতন ও ১২% সুদসহ) ফেরত দিতে হতে পারে।
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক: এই পদের ক্ষেত্রে ফেরত দিতে হতে পারে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
- গ্রুপ সি কর্মচারী: এদেরকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হতে পারে।
- গ্রুপ ডি কর্মচারী: এই পদে কর্মরতদের প্রায় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হতে পারে।
এই রায়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে, অন্যদিকে চাকরি হারানো হাজার হাজার শিক্ষক ও কর্মচারীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই রায় দুর্নীতি দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।