চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন, অস্ত্রোপচার করতেই চোখ থেকে বেরিয়ে এল…? অবাক চিকিৎসকরা

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এক ব্যক্তির চোখে বিরল পরজীবীর সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা চিকিৎসকদেরও অবাক করেছে। গত কয়েক মাস ধরে দৃষ্টিশক্তি কমে আসা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ নিয়ে ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা দেখতে পান, তার চোখের ভেতরে একটি পোকা ঘুরে বেড়াচ্ছে।

‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’ নামে একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে এই ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, চোখের লেন্স এবং রেটিনার মাঝখানে থাকা ‘ভিট্রেয়াস হিউমর’ নামক এক ধরনের জেলির মতো পদার্থের মধ্যে ওই পরজীবীটি বাসা বেঁধেছিল। এই পরজীবীটির কারণে ওই ব্যক্তির চোখে ছানি পড়ে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি প্রায় চলে যায়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই ধরনের সংক্রমণকে বলা হয় ‘ন্যাথোস্টোমিয়াসিস’ এবং এর জন্য দায়ী পরজীবীটির নাম ‘ন্যাথোস্টোমা স্পিনিজেরাম’। চিকিৎসকদের মতে, আংশিকভাবে রান্না করা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে এই পোকা মানবদেহে প্রবেশ করে। এরপর পাকস্থলী থেকে এটি ধীরে ধীরে চোখ, মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।

চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পোকাটি বের করতে সক্ষম হলেও, দীর্ঘদিন ধরে এটি চোখের ভেতরে থাকার কারণে ওই ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। পরে জানা যায়, এই পোকার কারণেই তার চোখে ছানি পড়ে গিয়েছিল। এখন আবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

প্রসঙ্গত, এই ধরনের ঘটনা ভারতে একেবারেই বিরল নয়। চলতি বছরের মে মাসে মুম্বাইয়ের এক বৃদ্ধার চোখ থেকেও ১০ সেন্টিমিটার লম্বা একটি পোকা সফলভাবে বের করেছিলেন চিকিৎসকরা। সেই ক্ষেত্রে, সময় মতো পোকাটি বের না করা গেলে সেটি হৃদপিণ্ডে পৌঁছে রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারত। তবে ওই বৃদ্ধা সফল অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছিলেন। এই দুটি ঘটনাই খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।