OMG! সাপের বিষে অকেজো হয়ে যায় ফুসফুস, বালকের প্রাণরক্ষা করলো হাসপাতাল

অলৌকিক বললেও হয়তো কম বলা হবে! এক বিষধর সাপের কামড়ে অচল হয়ে যাওয়া ফুসফুস সচল করে নদিয়ার ৯ বছরের এক বালককে নতুন জীবন দিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এই ধরনের রোগীর বেঁচে থাকা যেখানে প্রায় অসম্ভব, সেখানে সোমদীপ হালদার নামে ওই বালক দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। নদীয়ার বেথুয়াডহরির বাসিন্দা সোমদীপ বাড়ির বাইরে গেলে তার পায়ে সাপের কামড় লাগে। কিন্তু এতে কোনো ব্যথা অনুভব না করায় সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। পরের দিন ভোররাতে তার তীব্র পেট ব্যথা শুরু হয়, চোখ ঝুলে আসে এবং শরীর শিথিল হয়ে পড়ে। তখনই পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন, এটি সাপের কামড়ের ফল। দ্রুত তারা সোমদীপকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্থানীয় মহকুমা হাসপাতাল থেকে তাকে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখান থেকে আবার কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে তার শ্বাসকষ্ট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হওয়ায় পরিবার তাকে পিয়ারলেস হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।

পিয়ারলেস হাসপাতালের চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, সোমদীপের ফুসফুস প্রায় অচল হয়ে গেছে। দ্রুত তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। হাসপাতালের শিশু বিভাগের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর সংযুক্তা দে বলেন, “নিউোরোটক্সিক সাপের বিষে তার শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি এতটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিল যে ফুসফুস কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। তাকে সঙ্গে সঙ্গে ভেন্টিলেশনে না দিলে বাঁচানো যেত না।”

চিকিৎসকদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় এবং ভেন্টিলেটরের সহায়তায় সোমদীপের ফুসফুস ধীরে ধীরে আবার কাজ করা শুরু করে। তাকে অ্যান্টিভেনম, অ্যাট্রোপিন ও নিয়োস্টিগমিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তাকে রক্তও দেওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, এখন সোমদীপ ভেন্টিলেটর ছাড়াই নিজে শ্বাস নিতে পারছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ‘রেসপিরেটরি ফেলিয়োর’-এর পর এভাবে ফিরে আসা খুবই বিরল ঘটনা। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।