“বিজেপির শরিকদেরও ‘ঘ্যাচাং ফু’, গলা কেটে নাও!” ‘বন্দি’ মন্ত্রী সরাতে সংশোধনী বিল নিয়ে খোঁচা মহুয়ার

জনপ্রতিনিধিদের পুলিশ হেফাজতে থাকলে তাঁদের পদ থেকে অপসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি এই বিলকে শুধু বিরোধী দল নয়, বিজেপির শরিকদের জন্যও হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। আজ, বুধবার লোকসভায় অমিত শাহ কর্তৃক পেশ হতে চলা এই বিলটির বিরুদ্ধে আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন।

মহুয়ার ব্যাখ্যা
মহুয়া মৈত্র বলেন, এই বিল কেবল বিরোধীদের অধিকার খর্ব করার জন্য নয়, বরং বিজেপির শরিকরাও যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথা না শোনেন, তবে তাঁদের ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, “তাহলে ঘ্যাচাং ফু! গলা কেটে নাও!” এই বিল সংবিধান ও বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি তাঁর যুক্তির সপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেন:

১. যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর লঙ্ঘন: মহুয়া বলেন, সংবিধানে বলা আছে যে কোনো জনপ্রতিনিধি যদি আদালত দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৭ বছরের বেশি সাজা পান, তবেই তাঁকে অপসারণ করা যায়। কিন্তু এই নতুন বিল কেন্দ্রীয় সংস্থাকে (যেমন ইডি-সিবিআই) ব্যবহার করে ৩০ দিনের পুলিশি হেফাজতের ভিত্তিতেই একজন নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীকে অপসারণের ক্ষমতা দেবে। এটি সম্পূর্ণভাবে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে ভেঙে দেবে বলে মহুয়া মনে করেন।

২. বিচারব্যবস্থা এড়ানো: মহুয়া অভিযোগ করেন, এই বিল বিচারব্যবস্থাকে উপেক্ষা করছে। কারণ, কোনো ব্যক্তিকে দোষী বা নির্দোষ প্রমাণ করার একমাত্র ক্ষমতা আদালতের। তিনি দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সত্যেন্দ্র জৈন চার বছর জেলে থাকার পর সিবিআই জানায় তাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কনভিকশন রেট মাত্র ১ শতাংশ। অর্থাৎ, ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করলে মাত্র একজন দোষী প্রমাণিত হয়।

বিলের মূল বিষয়বস্তু
আজ লোকসভায় পেশ হতে চলা ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের যে কোনো মন্ত্রী যদি কোনো গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার হন এবং টানা ৩০ দিন পুলিশি হেফাজতে থাকেন, তাহলে এই আইন প্রযোজ্য হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদ থেকে অপসারণ করা যাবে।