টিউশনে ডেকে ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব! ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত

পুরুলিয়ার একটি সরকারি কলেজের এক অধ্যাপককে এক কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার পুরুলিয়া জেলা আদালতের স্পেশাল সেকেন্ড কোর্টের বিচারক রানা দাম এই রায় ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিবরণ
২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, পুরুলিয়ার দেশবন্ধু রোডে অবস্থিত সরকারি কলেজের একজন পার্ট টাইম প্রফেসর তার ভাড়া বাড়িতে দ্বিতীয় বর্ষের এক ১৭ বছর বয়সী ছাত্রীকে টিউশন পড়ানোর নাম করে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। ছাত্রীটি এতে রাজি না হলে অভিযুক্ত অধ্যাপক তার ওপর চড়াও হন।

এরপরই ওই নাবালিকা ছাত্রীর মা পুরুলিয়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করে। এরপর টানা এক বছর ধরে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলে। অবশেষে এক বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মঙ্গলবার এই মামলার শেষ শুনানি ছিল।

আদালতের রায়
বিচারক রানা দাম অভিযুক্ত অধ্যাপককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, নির্যাতিতা ছাত্রীকে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা আদালতের আইনজীবী শুক্লা ঘোষাল জানান, “টানা এক বছর ধরে এই মামলা চলেছে এবং অবশেষে অভিযুক্ত উপযুক্ত শাস্তি পেয়েছে।”

গত এক বছর আগে অধ্যাপকের এই জঘন্য কাণ্ডে পুরো পুরুলিয়া শহর গর্জে উঠেছিল। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছিল। আদালতের এই রায়ে ছাত্রীর পরিবার ও সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।