মন্ত্রী পদে আর থাকা যাবে না, গ্রেফতার হলেই পদ খোয়াতে হবে! নতুন বিল আনছে কেন্দ্র

গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন বন্দি থাকলে এবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ সহ কেন্দ্রীয় বা রাজ্য মন্ত্রীর পদ খোয়াতে হবে। এমন একটি বিল আজ লোকসভায় পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এই ‘১৩ তম সংবিধান সংশোধনী বিল’ পাশ হলে, তা সংবিধানে নতুন একটি ধারা যুক্ত করবে – ‘৭৫(এ)’। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, বা অন্য কোনও মন্ত্রীকে গুরুতর অভিযোগে (যেখানে পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে) গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ না করলে, তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর বহিষ্কৃত মন্ত্রীরা আবার পদ ফিরে পেতে পারেন বলেও বিলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জেল থেকেই সরকার চালানোর দিন শেষ?
এই বিলটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আবগারি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর প্রায় ৬ মাস জেলে থেকেও পদত্যাগ করেননি। জেল থেকেই তিনি সরকারের কাজকর্ম সামলেছেন। কিন্তু এই নতুন আইন পাশ হলে, এমনটা আর সম্ভব হবে না। গ্রেফতার হওয়ার পর ৩১তম দিনেই মন্ত্রিত্ব থেকে সরতে হবে বন্দি মন্ত্রীকে।

বিরোধীদের তোপ: ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’
কেন্দ্রের এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, “বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেফতার করে সরকার অস্থিতিশীল করার এটি একটি সেরা উপায়।” তাঁর মতে, শাসকদল তাদের নিজেদের কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে কখনই স্পর্শ করে না, আর বিরোধীদের পরাজিত করতে না পেরে গ্রেফতার করে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।

তৃণমূল সাংসদ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে অপব্যবহার করার এটি একটি নতুন দরজা খুলে দেবে। কোনও চার্জশিট বা দোষী সাব্যস্ত হওয়া ছাড়াই যেকোনও মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র সরাতে পারবে।”

আরও দুটি বিল পেশ হবে
আজ সংসদে শুধু এই বিলটিই নয়, আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর মধ্যে একটি হল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনিক সংশোধনী বিল, এবং অন্যটি হল জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল, ২০২৫। সংসদের বাদল অধিবেশন আগামীকাল শেষ হবে। এই ২ দিনে বিলগুলি নিয়ে সংসদের অভ্যন্তরে উত্তাপ কতটা বাড়ে, সেটাই এখন দেখার।