ইয়ারবাড কেনার আগে যে ৫ ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন, জেনেনিন কী কী?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইয়ারবাড বা ওয়্যারলেস হেডফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। গান শোনা থেকে শুরু করে ফোন কল বা ভিডিও কনফারেন্স, সব কিছুতেই এখন ইয়ারবাডের ব্যবহার অপরিহার্য। বাজারে অসংখ্য মডেলের ইয়ারবাড পাওয়া যায়, তাই সঠিকটি বেছে নেওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। ভালো মানের একটি ইয়ারবাড কেনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই মনে রাখা উচিত।

সেরা ইয়ারবাড কেনার আগে যে ৫টি বিষয় দেখা জরুরি, তা নিচে দেওয়া হলো:

১. সাউন্ড কোয়ালিটি: ইয়ারবাড কেনার আগে তার সাউন্ড কোয়ালিটি পরীক্ষা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাজ, ট্রেবল এবং ভোকাল ক্ল্যারিটির মধ্যে একটি ভারসাম্য আছে কি না, তা যাচাই করে নিন। আপনি যদি একজন সংগীতপ্রেমী হন, তাহলে হাই-রেজুলেশন অডিও সাপোর্ট আছে এমন ইয়ারবাড বেছে নেওয়া উচিত। কল করার সময় আপনার কণ্ঠস্বর কতটা স্পষ্ট শোনা যায়, তাও পরীক্ষা করে নিন।

২. নয়েজ ক্যান্সেলেশন: আজকাল ইয়ারবাডে দুটি প্রধান নয়েজ ক্যান্সেলেশন ফিচার থাকে। একটি হলো অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন (ANC), যা বাইরের অবাঞ্ছিত শব্দকে ব্লক করে। আরেকটি হলো এনভায়রনমেন্টাল নয়েজ ক্যান্সেলেশন (ENC), যা ফোন কলের সময় আপনার কণ্ঠস্বরকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। জনবহুল স্থান, যেমন অফিস বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ব্যবহারের জন্য এই ফিচারগুলো খুবই কার্যকর।

৩. কমফোর্ট ও ফিট: ইয়ারবাড দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক হওয়া জরুরি। যদি এটি ইন-ইয়ার ইয়ারবাড হয়, তাহলে কানের সাথে এর ফিট কেমন, তা যাচাই করুন। হালকা এবং নরম ইয়ারটিপসযুক্ত ইয়ারবাড বেছে নেওয়া উচিত। বেশিরভাগ ভালো ইয়ারবাডের সাথে বিভিন্ন আকারের ইয়ারটিপস দেওয়া হয়, যাতে ব্যবহারকারীরা নিজের কানের জন্য সঠিক ফিট খুঁজে নিতে পারেন।

৪. ব্যাটারি লাইফ: ইয়ারবাড কেনার আগে তার ব্যাটারি লাইফ দেখে নিন। একটি সম্পূর্ণ চার্জে ইয়ারবাড কতক্ষণ চলে এবং চার্জিং কেস-সহ মোট কতক্ষণ প্লে-ব্যাক টাইম পাওয়া যায়, তা জেনে নেওয়া দরকার। সাধারণত, একটি ভালো ইয়ারবাড এক চার্জে ৪-৮ ঘণ্টা এবং কেস-সহ ২০-৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে।

৫. মাইক্রোফোন ও জলরোধী ফিচার: কলের সময় আপনার ভয়েস কতটা পরিষ্কারভাবে শোনা যায়, তা নির্ভর করে মাইক্রোফোনের মানের ওপর। ডুয়াল মাইক্রোফোন বা ইএনসি ফিচারযুক্ত ইয়ারবাডগুলো কলের জন্য ভালো হয়। এছাড়াও, ইয়ারবাডে আইপিএক্স৪ বা তার চেয়ে উপরের রেটিং আছে কি না, তা দেখে নিন। এই ফিচারটি ঘাম বা সামান্য বৃষ্টির হাত থেকে ইয়ারবাডকে রক্ষা করে, যা জিম বা হাঁটার সময় খুবই দরকারি।

সবশেষে, আপনার বাজেট অনুযায়ী সেরা পারফরম্যান্স দেয় এমন ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া উচিত। জনপ্রিয় ব্র্যান্ড এবং ভালো রিভিউ আছে এমন পণ্য কিনলে ঝুঁকি কম থাকে। পাশাপাশি, পণ্যের গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি আছে কি না, তাও যাচাই করে নিতে পারেন।