কোটি কোটি টাকার জালিয়তির ‘প্রমাণ নেই’! ১২ বছর পর সারদা কাণ্ডে বেকসুর খালাস সুদীপ্ত-দেবযানী

সারদা চিটফান্ড মামলার অন্যতম দুই অভিযুক্ত, সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে তিনটি মামলায় বেকসুর খালাস করেছে আদালত। ২০১৩ সাল থেকে জেলবন্দি থাকার পর প্রমাণ ও তথ্যের অভাবে এই রায় দিয়েছে নগর দায়রা আদালত। তবে এই রায়ের পরেও এখনই তাদের জেল থেকে মুক্তি মিলছে না, কারণ তাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

২০১৩ সালে সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসার পর হেয়ার স্ট্রিট থানায় সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মঙ্গলবার নগর দায়রা আদালতের বিচারক নিধি শ্রী’র এজলাসে এই তিন মামলাতেই তাদের বেকসুর খালাস করা হয়। জানা গেছে, মামলার শুনানিতে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছে।

আইনজীবীর মতে, সরকারি পক্ষে ৫০ জন সাক্ষীর তালিকা থাকলেও মাত্র ১৫ জন সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন। যারা প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন, তাদের অনেকের কাছেই নিজেদের অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ ছিল না। এর ফলেই আদালত এই রায় দিতে বাধ্য হয়েছে। এই তিনটি মামলাই সারদা কর্ণধার এবং তার সহকর্মীর বিরুদ্ধে প্রথম দায়ের হওয়া মামলা ছিল।

তবে, এই রায়ের ফলে সুদীপ্ত এবং দেবযানীর জেল থেকে মুক্তি এখনই হচ্ছে না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে এখনও সিবিআই এবং ইডি-র করা একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া, সারদার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ২০০টির বেশি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে কাশ্মীরের শোনমার্গ থেকে সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তারা কারাবন্দি রয়েছেন। সুদীপ্ত প্রেসিডেন্সি জেলে এবং দেবযানী দমদম সেন্ট্রাল জেলে আছেন। সারদা মামলায় এটিই প্রথম কোনো বড় রায়, যা ভবিষ্যতে অন্য মামলাগুলির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।