বিশেষ: বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০ দ্বীপ কোন গুলি, এক নজরে জেনেনিন এইসব দ্বীপ সম্পর্কে

পৃথিবীতে দ্বীপের অভাব নেই, কিন্তু বিশাল আকারের দ্বীপের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কোনো দেশ হাজার হাজার দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে, আবার কোনো দেশের পুরোটাই একটি দ্বীপ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি, তা নিয়ে অনেক সময় ধোঁয়াশা থাকে। অস্ট্রেলিয়াকেও কেউ কেউ দ্বীপ মনে করেন, কারণ এর চারপাশ পানি দিয়ে ঘেরা। কিন্তু এর আয়তন একটি মহাদেশের সমান, তাই এটিকে মহাদেশ হিসেবেই ধরা হয়। চলুন, অস্ট্রেলিয়াকে বাদ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০টি দ্বীপের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক।
১. গ্রিনল্যান্ড
আয়তনের দিক থেকে গ্রিনল্যান্ড পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এর আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার। এটি ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের অংশ হলেও নিজস্ব সরকার আছে। বিশাল আয়তনের তুলনায় এর জনসংখ্যা খুবই কম, মাত্র ৫৫ হাজার, যাদের বেশিরভাগই ইনুইট আদিবাসী। গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ অংশ হিমবাহ দিয়ে ঢাকা। এখানকার স্থানীয়রা মাছ ও সিল শিকার করে জীবনযাপন করেন।
২. নিউগিনি
৮ লাখ ২১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি দুটি দেশের মধ্যে পড়েছে— ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি। এখানে প্রায়ই ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার কারণে গভীর অরণ্য এবং বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী দেখা যায়। প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে এখানে প্রথম মানব বসতি গড়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা হয়।
৩. বোর্নিও
৭ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি পৃথিবীর একমাত্র দ্বীপ যা তিনটি দেশ নিয়ন্ত্রণ করে— ব্রুনেই, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এর গভীর জঙ্গলে বোর্নিও ওরাংওটাং এবং দায়াক ফলখেকো বাদুড়ের মতো বিরল প্রজাতির প্রাণীর দেখা মেলে। এটি বিশ্বের অন্যতম পুরোনো চিরহরিৎ বনের আবাস। এখানে ২ কোটিরও বেশি মানুষ বাস করে।
৪. মাদাগাস্কার
বিচিত্র প্রাণী ও গাছপালার জন্য বিখ্যাত মাদাগাস্কারের আয়তন ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপে প্রায় আড়াই লাখ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বাস করে, যার দুই-তৃতীয়াংশ পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। লেমুর নামের লোমশ স্তন্যপায়ী প্রাণী শুধু এখানেই পাওয়া যায়।
৫. বাফিন
কানাডার সবচেয়ে বড় দ্বীপ বাফিনের আয়তন ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৫১ বর্গকিলোমিটার। সতেরো শতকের ব্রিটিশ অভিযাত্রী উইলিয়াম বাফিনের নামে এটির নামকরণ করা হয়। এখানকার চরমভাবাপন্ন জলবায়ু মানুষের বসবাসের জন্য কঠিন, তাই জনসংখ্যা মাত্র ১৩ হাজার। এখানকার হিমবাহ, হ্রদ এবং ‘নর্দার্ন লাইট’ দেখতে পর্যটকরা আসেন।
৬. সুমাত্রা
৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬ বর্গকিলোমিটারের এই দ্বীপটি ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত। এটি এমন এক জায়গায় পড়েছে যেখানে ভূমিকম্প ও সুনামি প্রায়ই ঘটে। সুমাত্রা বাঘ, গণ্ডার এবং ওরাংওটাং-এর মতো বিরল প্রাণীর জন্য এটি পরিচিত। এখানে প্রায় ৬ কোটি মানুষের বাস।
৭. হনশু
জাপানের চারটি প্রধান দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই দ্বীপের আয়তন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৮ বর্গকিলোমিটার। জাপানের অর্ধেকের বেশি অংশ জুড়ে থাকা হনশুতে টোকিও, হিরোশিমা এবং ওসাকার মতো বড় শহরগুলো অবস্থিত। এর জনসংখ্যা ১০ কোটির বেশি।
৮. ভিক্টোরিয়া
কানাডিয়ান আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জের এই দ্বীপের আয়তন ২ লাখ ১৭ হাজার ২৯১ বর্গকিলোমিটার। এটি বাফিন দ্বীপের পর এই অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। রানি ভিক্টোরিয়ার নামে এর নামকরণ করা হয়েছে এবং এর স্থায়ী জনসংখ্যা মাত্র ২ হাজারের কিছু বেশি।
৯. গ্রেট ব্রিটেন
ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলস নিয়ে গঠিত গ্রেট ব্রিটেনের আয়তন ২ লাখ ৯ হাজার ৩৩১ বর্গকিলোমিটার। এটি ইউরোপের বৃহত্তম এবং যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এখানকার প্রাচীন ইতিহাস, যেমন স্টোনহেঞ্জ ও মধ্যযুগীয় দুর্গগুলো পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এটি ইউরোপের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে ৬ কোটিরও বেশি মানুষ বাস করে।
১০. এলেসমেরে
তালিকায় শেষ নামটি হলো এলেসমেরের, যার আয়তন ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৩৬ বর্গকিলোমিটার। এটি কানাডিয়ান আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জের একটি অংশ। এখানকার রুক্ষ ও বরফাচ্ছন্ন ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এখানে মাত্র ১৪৪ জন মানুষ বাস করে।