গে ডেটিং অ্যাপে প্রতারণার ফাঁদ, টাকা হাতিয়ে সেক্স র্যাকেটে নামানোর অভিযোগ

নেট দুনিয়ায় বহুল ব্যবহৃত গে ডেটিং অ্যাপগুলো এখন এক নতুন ধরনের প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সমাজের যে অংশ এখনও সমকামিতার বিষয়ে ট্যাবু ভেঙে বের হতে পারেনি, তাদেরই ভয়কে কাজে লাগিয়ে একদল প্রতারক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। পুলিশ জানাচ্ছে, এই চক্রগুলো এখন শুধু টাকা নিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অনেককে সেক্স র্যাকেটেও নামতে বাধ্য করছে।
এই চক্রটি প্রথমে গে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে টার্গেটদের সঙ্গে পরিচিত হয়। এরপর ফোনে বা হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় এবং সাক্ষাতের জন্য আহ্বান জানায়। সাক্ষাতের সময়, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে গোপনে ছবি বা ভিডিও তুলে নেওয়া হয়। এরপর সেই ছবি বা চ্যাটের স্ক্রিনশট ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়।
সম্প্রতি বালিগঞ্জ থানায় আশিস (ছদ্মনাম) নামে এক যুবক এমনই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। গে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তার এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাকে একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে অন্য দু’জন যুবক এসে ছবি তোলে। এরপর মারধর করে তার কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগেও পাটুলিতে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক সমকামী ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চান। প্রতারকরা এই দুর্বলতার সুযোগ নেয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা ব্যক্তিগত ছবি ও চ্যাট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, যারা টাকা দিয়েও এই চক্রের হাত থেকে বাঁচতে পারছেন না, তাদেরকে ক্লায়েন্ট হিসেবে সেক্স র্যাকেটেও পাঠানো হচ্ছে। যেতে না চাইলে ছবি ও চ্যাট ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন অতিরিক্ত সিপি কল্যাণ মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, “কিছু অপরাধপ্রবণ মানুষ নিজের পরিচয় গোপন করে অসামাজিক ও অপরাধমূলক কাজ করছে। কম সময়ে বেশি উপার্জনের লোভই তাদের এই পথে ঠেলে দিচ্ছে।”