আমন্ত্রণ পেয়েও মোদীর সঙ্গে এক মঞ্চে থাকছেন না মমতা, কিন্তু কেন? মুখ খুললেন মুখপাত্র

আগামী ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে দমদম মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমন্ত্রণ পেয়েও তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে সোমবার জানিয়েছেন। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার পেছনে মূল কারণ হল রাজনৈতিক কৌশল। কুণাল ঘোষের দাবি, যে প্রকল্পগুলির উদ্বোধন হতে চলেছে, সেগুলির পরিকল্পনা ও অর্থ বরাদ্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই করেছিলেন। ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপি এখন এই প্রকল্পগুলির উদ্বোধন করছে।
তৃণমূলের তিনটি অভিযোগ:
১. প্রকল্পের মালিকানা: কুণাল ঘোষের মতে, যে প্রকল্পগুলি উদ্বোধন হচ্ছে, সেগুলোর পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ মমতার রেলমন্ত্রী থাকাকালীন করা হয়েছিল। বিজেপি এখন শুধু সেগুলোর উদ্বোধন করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে।
২. নেতাজীর অবমাননা: দিল্লিতে নেতাজীর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিজেপি কর্মীদের একাংশ দ্বারা নেতাজীর অবমাননা করা হয়েছিল বলে তৃণমূল অভিযোগ করেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী সেই অপমান ভোলেননি।
৩. বাঙালিদের ওপর নিগ্রহ: বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলা ও বাঙালিদের ওপর নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, এই তিন কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মোদীর মুখোমুখি হবেন না।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “বিজেপি অপমানের রাজনীতি করছে এবং চিঠির বয়ান থেকে শুরু করে পুরোটাই রাজনীতির খেলা।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ করে বিজেপি সমর্থকরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ:
তৃণমূলের এই যুক্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তারা অভিযোগ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন যেসব প্রকল্প শুরু করেছিলেন, তার বেশিরভাগই এখন বেহাল অবস্থায়। বিরোধীরা সরাসরি অভিযোগ করে বলেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পগুলো থেকে ‘কাটমানি’ নিয়েছেন। সম্প্রতি কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়াকে তারা এই ‘বেহাল দশার’ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই তরজা আসন্ন ভোটের আগে রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। উন্নয়ন কে এনেছে, কেন্দ্র নাকি রাজ্য—এ নিয়ে সাধারণ মানুষও এখন দ্বিধায় রয়েছে।