অটোচালকের যৌন লালসার শিকার নাবালিকা, চিৎকার করতেই খুনের হুমকি! ফের সেই বিজেপি শাসিত রাজ্যে

বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশায় নারী নির্যাতন, যৌন হেনস্থা এবং ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক দিনে পরপর ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওড়িশার কটকে এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে এক অটো চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল ৮ আগস্ট, কিন্তু নাবালিকা গত সপ্তাহে তার পরিবারকে জানায়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সোমবার অভিযুক্ত অটো চালককে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত নাবালিকাকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দিয়েছিল বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকা তার বন্ধুর সঙ্গে অটোতে করে যাচ্ছিল। বন্ধু জল কিনতে নামলে এই সুযোগে অটোচালক তাকে যৌন হেনস্থা করে।

গত সপ্তাহে ধেনকানাল জেলার একটি আশ্রমে ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে। ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা আশ্রমের ৪৭ বছর বয়সী প্রধান পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই পুরোহিতকে গ্রেপ্তার করেছে। মহিলা জানান, গত ৪ আগস্ট রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার ঘরে ঢুকে ওই ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে এবং বাধা দিলে গালিগালাজ করে।

ওড়িশায় নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও বেড়েছে। গত ৩০ দিনে বালেশ্বর, বালাঙ্গা, কেন্দ্রপাড়া এবং বারগড় জেলায় চারটি এমন ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি, বারগড় জেলায় এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যার শরীরে পোড়া দাগ ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, এক কলেজ ছাত্রী যৌন হেনস্থার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেন এবং ১৯ জুলাই পুরী জেলায় এক তরুণীকে অপহরণ করে পুড়িয়ে মারা হয়।

এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো রাজ্যের নারী সুরক্ষার প্রশ্নে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দল এবং সমাজকর্মীরা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন। তবে শাসক দল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, বিরোধী দলগুলি রাজ্যকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।