চিন-ভারত সম্পর্কে নতুন দিগন্ত! সার ও দুর্লভ খনিজ সরবরাহে সম্মতি চীনের

দীর্ঘ চার বছরের টানাপোড়েনের পর ভারত এবং চিনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই’র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইতিবাচক ফল মিলেছে। এই আলোচনার পর, চিন ভারতের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ সার (যেমন ইউরিয়া, এনপিকে, ডিএপি), দুর্লভ খনিজ এবং টানেল বোরিং মেশিন (TBM) এর সরবরাহ পুনরায় চালু করতে সম্মত হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে বেইজিং এই সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল, যা ভারতের কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।

সীমান্ত সমস্যা এবং কূটনৈতিক আলোচনা
জয়শঙ্কর-ওয়াং বৈঠকে সীমান্ত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তাঁর চিনা প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় উত্থাপন করবেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য হল ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) বরাবর মোতায়েন করা উভয় দেশের বিপুল সংখ্যক সেনা প্রত্যাহার করে উত্তেজনা প্রশমিত করা। যদিও লাদাখে কিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে, তবুও সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন থাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বৈদেশিক নীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া
এই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান নীতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই একমত হয়েছে যে, ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতি ভারত এবং চিন উভয়কেই লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এই অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাইওয়ান প্রশ্নে ভারতের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং ভারত অন্যান্য দেশের মতোই তাইওয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাবনা
ওয়াং ই’র এই সফর এবং এর ইতিবাচক ফলাফল দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরের অংশ হিসেবে চিনের বিদেশমন্ত্রী সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।